সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধের ধাক্কায় আরব অর্থনীতি, ক্ষতির আশঙ্কা ১৯৪ বিলিয়ন ডলার

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৭:২২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১২৮ Time View

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের সংঘাতের প্রভাবে আরব বিশ্বের অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে। United Nations Development Programme (ইউএনডিপি) সতর্ক করে বলেছে, এই সংঘাতের প্রভাব মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভয়াবহ অর্থনৈতিক ক্ষতির রূপ নিতে পারে, যার ফলে লাখো মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে এবং বেকারত্ব উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

মঙ্গলবার প্রকাশিত সংস্থাটির এক মূল্যায়নে বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া চার সপ্তাহব্যাপী একটি সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির মডেল ধরে এই বিশ্লেষণ তৈরি করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংঘাত সীমিত পর্যায়ে থাকলেও বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং আর্থিক খাতের মাধ্যমে এর প্রভাব দ্রুত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংঘাতের ফলে আরব দেশগুলোর মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩.৭ শতাংশ থেকে ৬.০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। অর্থমূল্যে এর পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১২০ বিলিয়ন থেকে ১৯৪ বিলিয়ন ডলার। সংঘাতজনিত অনিশ্চয়তা বিনিয়োগ প্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে এবং সমুদ্রপথে পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

উচ্চমাত্রার সংঘাতের পরিস্থিতিতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে লেভান্ত অঞ্চল এবং দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলো—যেমন Sudan ও Yemen—সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

এদিকে শ্রমবাজারেও বড় ধাক্কা আসতে পারে। অতিরিক্ত ২৫ লাখ থেকে ৩৫ লাখ মানুষ চাকরি হারাতে পারে, যেখানে কম দক্ষ শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ ৪.৫ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

 

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই অর্থনৈতিক ধাক্কার মূল কারণ হচ্ছে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন। বিশেষ করে Strait of Hormuz-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং আমদানি-নির্ভর দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে।

অঞ্চলভেদে এই প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চল ও লেভান্তের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়লেও উত্তর আফ্রিকার কিছু দেশ জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সাময়িকভাবে কিছুটা সুবিধা পেতে পারে।

 

প্রতিবেদন আরও জানায়, এই পরিস্থিতির কারণে মানব উন্নয়ন সূচকে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং কিছু দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি এক বছর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি রাজস্ব কমে যাওয়া ও বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি পাওয়ায় সংকট মোকাবিলা করা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

 

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে Iran-এর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। চলমান এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এর জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরাইলের পাশাপাশি জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

 

এছাড়া, ইরান কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সমুদ্রপথে বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

যুদ্ধের ধাক্কায় আরব অর্থনীতি, ক্ষতির আশঙ্কা ১৯৪ বিলিয়ন ডলার

Update Time : ০৭:২২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের সংঘাতের প্রভাবে আরব বিশ্বের অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে। United Nations Development Programme (ইউএনডিপি) সতর্ক করে বলেছে, এই সংঘাতের প্রভাব মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভয়াবহ অর্থনৈতিক ক্ষতির রূপ নিতে পারে, যার ফলে লাখো মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে এবং বেকারত্ব উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

মঙ্গলবার প্রকাশিত সংস্থাটির এক মূল্যায়নে বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া চার সপ্তাহব্যাপী একটি সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির মডেল ধরে এই বিশ্লেষণ তৈরি করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংঘাত সীমিত পর্যায়ে থাকলেও বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং আর্থিক খাতের মাধ্যমে এর প্রভাব দ্রুত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংঘাতের ফলে আরব দেশগুলোর মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩.৭ শতাংশ থেকে ৬.০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। অর্থমূল্যে এর পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১২০ বিলিয়ন থেকে ১৯৪ বিলিয়ন ডলার। সংঘাতজনিত অনিশ্চয়তা বিনিয়োগ প্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে এবং সমুদ্রপথে পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

উচ্চমাত্রার সংঘাতের পরিস্থিতিতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে লেভান্ত অঞ্চল এবং দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলো—যেমন Sudan ও Yemen—সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

এদিকে শ্রমবাজারেও বড় ধাক্কা আসতে পারে। অতিরিক্ত ২৫ লাখ থেকে ৩৫ লাখ মানুষ চাকরি হারাতে পারে, যেখানে কম দক্ষ শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ ৪.৫ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

 

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই অর্থনৈতিক ধাক্কার মূল কারণ হচ্ছে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন। বিশেষ করে Strait of Hormuz-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং আমদানি-নির্ভর দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে।

অঞ্চলভেদে এই প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চল ও লেভান্তের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়লেও উত্তর আফ্রিকার কিছু দেশ জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সাময়িকভাবে কিছুটা সুবিধা পেতে পারে।

 

প্রতিবেদন আরও জানায়, এই পরিস্থিতির কারণে মানব উন্নয়ন সূচকে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং কিছু দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি এক বছর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি রাজস্ব কমে যাওয়া ও বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি পাওয়ায় সংকট মোকাবিলা করা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

 

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে Iran-এর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। চলমান এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এর জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরাইলের পাশাপাশি জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

 

এছাড়া, ইরান কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সমুদ্রপথে বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।