সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীকে ১২০ জনের কাছে ‘বিক্রি’, জেলে স্বামী  

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:২৪:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • / ১১১ Time View

 

সুইডেনে আলোচিত এক মামলায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দেশটির প্রসিকিউটর ওই ব্যক্তিকে দেহব্যবসায় বাধ্য করা, একাধিক ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম NDTV এ তথ্য জানিয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার স্ত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ প্রয়োগ করে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করতেন। এ ঘটনায় অন্তত ১২০ জন পুরুষ জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বিষয়টিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক শোষণের ঘটনা, যেখানে ভুক্তভোগী নারী দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ঘটনাটি সুইডেনজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

৬২ বছর বয়সী অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তার স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের অক্টোবরে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বহু বছর ধরে তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক যৌন কার্যকলাপে অংশ নিতে বাধ্য করে তা থেকে অর্থ উপার্জন করতেন। তিনি অনলাইনে বিজ্ঞাপন তৈরি করতেন, গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন এবং সাক্ষাতের ব্যবস্থাও করতেন। এমনকি পুরো কার্যক্রমে নজরদারি ও পাহারার দায়িত্বও পালন করতেন।

এছাড়াও, স্ত্রীকে আরও বেশি গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে অনলাইনে যৌন কার্যকলাপে অংশ নিতে চাপ প্রয়োগ করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীর ওপর সহিংসতা, হুমকি এবং তার মাদকাসক্তির সুযোগ নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে মাদক সরবরাহ করার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।

দেশটির প্রসিকিউটর এ ঘটনাকে ‘নির্মম শোষণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে অন্তত আটটি ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১১ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটেছে। মামলার বিচার কার্যক্রম আগামী ১৩ এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

স্ত্রীকে ১২০ জনের কাছে ‘বিক্রি’, জেলে স্বামী  

Update Time : ১১:২৪:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

 

সুইডেনে আলোচিত এক মামলায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দেশটির প্রসিকিউটর ওই ব্যক্তিকে দেহব্যবসায় বাধ্য করা, একাধিক ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম NDTV এ তথ্য জানিয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার স্ত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ প্রয়োগ করে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করতেন। এ ঘটনায় অন্তত ১২০ জন পুরুষ জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বিষয়টিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক শোষণের ঘটনা, যেখানে ভুক্তভোগী নারী দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ঘটনাটি সুইডেনজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

৬২ বছর বয়সী অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তার স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের অক্টোবরে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বহু বছর ধরে তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক যৌন কার্যকলাপে অংশ নিতে বাধ্য করে তা থেকে অর্থ উপার্জন করতেন। তিনি অনলাইনে বিজ্ঞাপন তৈরি করতেন, গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন এবং সাক্ষাতের ব্যবস্থাও করতেন। এমনকি পুরো কার্যক্রমে নজরদারি ও পাহারার দায়িত্বও পালন করতেন।

এছাড়াও, স্ত্রীকে আরও বেশি গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে অনলাইনে যৌন কার্যকলাপে অংশ নিতে চাপ প্রয়োগ করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীর ওপর সহিংসতা, হুমকি এবং তার মাদকাসক্তির সুযোগ নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে মাদক সরবরাহ করার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।

দেশটির প্রসিকিউটর এ ঘটনাকে ‘নির্মম শোষণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে অন্তত আটটি ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১১ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটেছে। মামলার বিচার কার্যক্রম আগামী ১৩ এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।