ট্রাম্পকে দুঃসংবাদ দিল মার্কিন গোয়েন্দারা
- Update Time : ০২:১৯:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
- / ১৪৯ Time View

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো পুরোপুরি বদলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা উৎখাত করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সাম্প্রতিক এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালালেও ইরান–এর বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ক্ষমতাচ্যুত করা সহজ হবে না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল–এর একটি শ্রেণিবদ্ধ (ক্লাসিফাইড) বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরুর প্রায় এক সপ্তাহ আগে প্রস্তুত করা ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হত্যা করা হলেও দেশটির শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য আগে থেকেই অত্যন্ত শক্তিশালী ও কার্যকর বিকল্প প্রোটোকল তৈরি করা রয়েছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো এমনভাবে সাজানো যে নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে বাইরের শক্তির সামরিক চাপের মাধ্যমে দ্রুত সরকার পতন ঘটানো বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিরোধী দলগুলো বর্তমানে বিচ্ছিন্ন ও দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। তাদের মধ্যে ঐক্যের অভাব এবং সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থান বা ক্ষমতা দখলের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত খুবই কম।
এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের ব্যক্তিগত অনুমোদনের বিষয়টি সামনে এনেছেন। তিনি অতীতের একটি উদাহরণ টেনে বলেন, যেমনভাবে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক হয়েছিল, তেমনি ইরানের ক্ষেত্রেও তিনি এমন কাউকে দেখতে চান যিনি দেশটির বর্তমান নীতির পরিবর্তন ঘটিয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবেন।
ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–এর ছেলে মোজতবা খামেনি যদি নেতৃত্বে আসেন, তবে তা তার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি এমন একজন নেতাকে দেখতে চান যিনি ইরানের নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনবেন। অন্যথায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে কেবল দেশটির জনগণই। বাইরের কোনো শক্তির এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা, ইরানের শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যের কারণে দেশটির শাসনব্যবস্থা হঠাৎ করে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
সূত্র: এনডিটিভি
















