যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না ইরান: নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি
- Update Time : ০২:৫৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
- / ১৩৬ Time View

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি। সোমবার (২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
এর আগে মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আলোচনার প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে লারিজানির বক্তব্যে সেই গুঞ্জন কার্যত নাকচ হয়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে সংঘাত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। লেবানন-এ ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। রাজধানী বৈরুত-এর দক্ষিণ শহরতলীতে এই হামলা চালানো হয়। দেশটির মেডিক্যাল সূত্রগুলো হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, লেবানন থেকে মিসাইল ছোড়ার পর বৈরুত সরাসরি তেল আবিব-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। তবে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই পরিস্থিতিকে ‘প্রক্সি সংঘাত’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দেশকে সরাসরি যুদ্ধে না জড়ানোর ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।
এর আগে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের ৫৩টি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করে ইসরায়েল। নির্দেশনায় বলা হয়, হিজবুল্লাহ-এর স্থাপনা বা সামরিক সম্পদের কাছাকাছি অবস্থান করলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে। বাসিন্দাদের অবিলম্বে বাড়িঘর ছেড়ে খোলা স্থানে অন্তত এক হাজার মিটার দূরে সরে যেতে বলা হয়েছে।
এদিকে উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিল উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিল (জিসিসি) এক জরুরি ভিডিও কনফারেন্সে মিলিত হয়ে ইরানের ‘আগ্রাসন’-এর বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধের অঙ্গীকার করেছে। সদস্য দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার-সহ ছয়টি দেশ জানিয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর যৌথ হামলা নিয়ে মার্কিন জনমতের চিত্র উঠে এসেছে রয়টার্স/ইপসস জরিপে। জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২৭ শতাংশ আমেরিকান এই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন, যেখানে ৪৩ শতাংশ সরাসরি বিরোধিতা করেছেন। প্রায় ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় সামরিক শক্তি ব্যবহারে অতিরিক্ত উৎসাহী।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক দরজা বন্ধ হয়ে গেলে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি করবে।
















