ইরানের হামলায় সৌদি আরামকোর তেল শোধনাগার বন্ধ, তেলের দাম ৪ বছরে সর্বোচ্চ
- Update Time : ০২:৪১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
- / ১৪৪ Time View

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিজেদের বৃহৎ রাস তানুরা তেল শোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে সৌদি আরামকো। সোমবার (২ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
এই খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারে পৌঁছায়, যা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি আরামকোর মিডিয়া অফিস। তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌদি আরবের রাস তানুরা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল প্রক্রিয়াকরণ ও রপ্তানি কেন্দ্র হওয়ায় এর কার্যক্রমে সাময়িক বিরতিও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধাবস্থার উত্তেজনায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয় কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। সেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় কার্যত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যদিও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেয়নি, তবুও জাহাজ মালিকরা ঝুঁকি এড়াতে নিজেরাই চলাচল সীমিত করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত বৈশ্বিক তেলবাজারের জন্য এক নতুন ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং একই সঙ্গে দেশটির জনগণকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের আহ্বান জানায়।
এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি এবং সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন-এর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়। সংঘাতের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের মূল্য এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
















