সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রকে যে আহ্বান জানালো চীন

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:১৭:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৩৭ Time View

 

চীন যুক্তরাষ্ট্রকে বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর আরোপিত একতরফা শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। এই প্রতিক্রিয়া এসেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত কয়েকটি শুল্ক বাতিল করার রায় দেওয়ার পর।

গত শুক্রবার ছয়-তিন ভোটে দেওয়া রায়ে আদালত জানায়, ১৯৭৭ সালের একটি আইনের আওতায় ট্রাম্প যেভাবে বিভিন্ন দেশের ওপর আকস্মিক শুল্ক আরোপ করেছিলেন, সে ধরনের ক্ষমতা তার ছিল না। আদালতের এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

রায়ের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। প্রথমে বিকল্প আইনি কাঠামোর আওতায় আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। পরে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেন। নতুন এই শুল্ক মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে এবং নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে ছাড় রেখে এটি ১৫০ দিন পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সোমবার জানায়, আদালতের রায়ের প্রভাব তারা সমগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে একতরফা শুল্কনীতি বাতিলের আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বাণিজ্যযুদ্ধে কোনো পক্ষই জয়ী হয় না এবং সুরক্ষাবাদ দীর্ঘমেয়াদে কারও জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র যদি বিকল্প ব্যবস্থা—যেমন বাণিজ্য তদন্ত—গ্রহণ করে শুল্ক বহাল রাখার চেষ্টা করে, তবে বেইজিং তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এটি তার প্রথম চীন সফর হওয়ার কথা রয়েছে। সফরের কয়েক সপ্তাহ আগে এই কূটনৈতিক বার্তা দুই দেশের সম্পর্কের সংবেদনশীলতা তুলে ধরেছে। তবে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য বৈঠক কেবল বাণিজ্য বিরোধ নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

সুপ্রিম কোর্টের রায়কে অনেকেই ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। দায়িত্বে ফেরার পর থেকে বিচারিক মহলে যে সমর্থন তিনি পেয়েছিলেন, এবার সেই কাঠামোই তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, তারা আদালতের রায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক ঘোষণার প্রভাব পর্যালোচনা করছে। ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

যুক্তরাষ্ট্রকে যে আহ্বান জানালো চীন

Update Time : ০৩:১৭:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

চীন যুক্তরাষ্ট্রকে বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর আরোপিত একতরফা শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। এই প্রতিক্রিয়া এসেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত কয়েকটি শুল্ক বাতিল করার রায় দেওয়ার পর।

গত শুক্রবার ছয়-তিন ভোটে দেওয়া রায়ে আদালত জানায়, ১৯৭৭ সালের একটি আইনের আওতায় ট্রাম্প যেভাবে বিভিন্ন দেশের ওপর আকস্মিক শুল্ক আরোপ করেছিলেন, সে ধরনের ক্ষমতা তার ছিল না। আদালতের এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

রায়ের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। প্রথমে বিকল্প আইনি কাঠামোর আওতায় আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। পরে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেন। নতুন এই শুল্ক মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে এবং নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে ছাড় রেখে এটি ১৫০ দিন পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সোমবার জানায়, আদালতের রায়ের প্রভাব তারা সমগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে একতরফা শুল্কনীতি বাতিলের আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বাণিজ্যযুদ্ধে কোনো পক্ষই জয়ী হয় না এবং সুরক্ষাবাদ দীর্ঘমেয়াদে কারও জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র যদি বিকল্প ব্যবস্থা—যেমন বাণিজ্য তদন্ত—গ্রহণ করে শুল্ক বহাল রাখার চেষ্টা করে, তবে বেইজিং তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এটি তার প্রথম চীন সফর হওয়ার কথা রয়েছে। সফরের কয়েক সপ্তাহ আগে এই কূটনৈতিক বার্তা দুই দেশের সম্পর্কের সংবেদনশীলতা তুলে ধরেছে। তবে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য বৈঠক কেবল বাণিজ্য বিরোধ নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

সুপ্রিম কোর্টের রায়কে অনেকেই ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। দায়িত্বে ফেরার পর থেকে বিচারিক মহলে যে সমর্থন তিনি পেয়েছিলেন, এবার সেই কাঠামোই তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, তারা আদালতের রায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক ঘোষণার প্রভাব পর্যালোচনা করছে। ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।