সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারতে পারবে স্বামী, আফগানিস্তানে নতুন আইন

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:৩৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৭৫ Time View
নারীদের বিরুদ্ধের একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে আফগানিস্তান। ছবি সংগৃহীত

 

নারীদের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগের মধ্যেই আফগানিস্তানে আবারও কঠোর আইন জারি করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী Taliban। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম The Independent–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নতুন ফৌজদারি আইনের মাধ্যমে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা কার্যত পারিবারিক সহিংসতার বৈধতা দেওয়ার শামিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন আইনে বলা হয়েছে—যদি কোনো স্বামী মারধরের সময় ‘অতিরিক্ত শক্তি’ প্রয়োগ করে স্ত্রীর দৃশ্যমান জখম বা হাড় ভেঙে ফেলেন, তাহলে তার সর্বোচ্চ ১৫ দিনের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে শাস্তি কার্যকর হবে তখনই, যখন নির্যাতিত স্ত্রী আদালতে নির্যাতনের বিষয়টি প্রমাণ করতে সক্ষম হবেন।

খবরে আরও বলা হয়েছে, ৯০ পৃষ্ঠার নতুন এই দণ্ডবিধিতে স্বাক্ষর করেছেন তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। পশতু ভাষায় ‘দ্য মাহাকুমু জাজাই উসুলনামা’ (আদালতের ফৌজদারি বিধি সংক্রান্ত নিয়মাবলী) শিরোনামের এই আইন ইতোমধ্যে আফগানিস্তানের বিভিন্ন আদালতে বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

নতুন বিধিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, নির্যাতনের অভিযোগ তুলতে হলে ভুক্তভোগী নারীকে সম্পূর্ণ হিজাব পরিহিত অবস্থায় আদালতে হাজির হয়ে জখম দেখাতে হবে। পাশাপাশি, তার সঙ্গে স্বামী অথবা কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অভিভাবকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এছাড়া, বিবাহিত নারী স্বামীর অনুমতি ছাড়া আত্মীয়ের বাড়িতে গেলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ডের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নতুন এই আইনে সমাজকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—উলামা (ধর্মীয় বিদ্বান), আশরাফ (অভিজাত), মধ্য শ্রেণি এবং নিম্ন শ্রেণি। অভিযোগ অনুযায়ী, একই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তির মাত্রা অপরাধের প্রকৃতির বদলে অভিযুক্তের সামাজিক অবস্থান অনুসারে নির্ধারিত হতে পারে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে আফগানিস্তানে নারীদের অধিকার সংকোচনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আইন কার্যকর হলে দেশটিতে নারীর স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের সুযোগ আরও সীমিত হয়ে পড়তে পারে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারতে পারবে স্বামী, আফগানিস্তানে নতুন আইন

Update Time : ০২:৩৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
নারীদের বিরুদ্ধের একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে আফগানিস্তান। ছবি সংগৃহীত

 

নারীদের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগের মধ্যেই আফগানিস্তানে আবারও কঠোর আইন জারি করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী Taliban। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম The Independent–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নতুন ফৌজদারি আইনের মাধ্যমে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা কার্যত পারিবারিক সহিংসতার বৈধতা দেওয়ার শামিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন আইনে বলা হয়েছে—যদি কোনো স্বামী মারধরের সময় ‘অতিরিক্ত শক্তি’ প্রয়োগ করে স্ত্রীর দৃশ্যমান জখম বা হাড় ভেঙে ফেলেন, তাহলে তার সর্বোচ্চ ১৫ দিনের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে শাস্তি কার্যকর হবে তখনই, যখন নির্যাতিত স্ত্রী আদালতে নির্যাতনের বিষয়টি প্রমাণ করতে সক্ষম হবেন।

খবরে আরও বলা হয়েছে, ৯০ পৃষ্ঠার নতুন এই দণ্ডবিধিতে স্বাক্ষর করেছেন তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। পশতু ভাষায় ‘দ্য মাহাকুমু জাজাই উসুলনামা’ (আদালতের ফৌজদারি বিধি সংক্রান্ত নিয়মাবলী) শিরোনামের এই আইন ইতোমধ্যে আফগানিস্তানের বিভিন্ন আদালতে বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

নতুন বিধিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, নির্যাতনের অভিযোগ তুলতে হলে ভুক্তভোগী নারীকে সম্পূর্ণ হিজাব পরিহিত অবস্থায় আদালতে হাজির হয়ে জখম দেখাতে হবে। পাশাপাশি, তার সঙ্গে স্বামী অথবা কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অভিভাবকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এছাড়া, বিবাহিত নারী স্বামীর অনুমতি ছাড়া আত্মীয়ের বাড়িতে গেলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ডের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নতুন এই আইনে সমাজকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—উলামা (ধর্মীয় বিদ্বান), আশরাফ (অভিজাত), মধ্য শ্রেণি এবং নিম্ন শ্রেণি। অভিযোগ অনুযায়ী, একই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তির মাত্রা অপরাধের প্রকৃতির বদলে অভিযুক্তের সামাজিক অবস্থান অনুসারে নির্ধারিত হতে পারে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে আফগানিস্তানে নারীদের অধিকার সংকোচনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আইন কার্যকর হলে দেশটিতে নারীর স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের সুযোগ আরও সীমিত হয়ে পড়তে পারে।