সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজা থেকে ‘এক মিলিমিটারও’ পিছু হটবে না ইসরায়েল

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৫১ Time View
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। ছবি: এবিসি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ঘোষিত যুদ্ধ সমাপ্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু হলেও গাজার তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ‘এক মিলিমিটার’ পরিমাণও পিছু হটবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Israel Katz। তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে গাজা পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) হিব্রু দৈনিক Yedioth Ahronoth আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কাটজ বলেন, হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনারা বর্তমান অবস্থান থেকে সরবে না। গাজার পূর্বাঞ্চলে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ইসরায়েলি বাহিনী যে সীমা পর্যন্ত সরে এসেছিল, সেটিকেই ‘ইয়েলো লাইন’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, হামাসকে কোনো অবস্থাতেই অস্ত্রসহ গাজায় টিকে থাকতে দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষায়, “শেষ টানেলটি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।” এর মাধ্যমে তিনি হামাসের সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ নির্মূলের বিষয়ে ইসরায়েলের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

এর আগে সোমবার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সচিব Yossi Fuchs জানান, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের জন্য সরকার ৬০ দিনের সময় দেবে। এই সময়ের মধ্যে শর্ত পূরণ না হলে পুনরায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। যদিও ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলের বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ গত জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে কার্যকর হয়েছে। এই ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহার, পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং একটি প্রশাসনিক কমিটির মাধ্যমে গাজা পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক অনড় অবস্থান শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

কাটজ যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘মহান মিত্র’ হিসেবে আখ্যা দিলেও স্বীকার করেছেন যে যুদ্ধ চলাকালে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য ছিল। এ কারণে ইসরায়েল এখন নিজস্বভাবে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদন বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে বাইরের ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ‘Shield of Israel’ নামে একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় আগামী এক দশকে অতিরিক্ত ৩৫০ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কাটজের মতে, শক্তিশালী অর্থনীতি ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, আবার নিরাপত্তা ছাড়া অর্থনীতিও টেকসই হয় না। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতে গাজায় ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং বেসামরিক অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে—যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: Anadolu Agency

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গাজা থেকে ‘এক মিলিমিটারও’ পিছু হটবে না ইসরায়েল

Update Time : ১২:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। ছবি: এবিসি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ঘোষিত যুদ্ধ সমাপ্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু হলেও গাজার তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ‘এক মিলিমিটার’ পরিমাণও পিছু হটবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Israel Katz। তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে গাজা পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) হিব্রু দৈনিক Yedioth Ahronoth আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কাটজ বলেন, হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনারা বর্তমান অবস্থান থেকে সরবে না। গাজার পূর্বাঞ্চলে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ইসরায়েলি বাহিনী যে সীমা পর্যন্ত সরে এসেছিল, সেটিকেই ‘ইয়েলো লাইন’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, হামাসকে কোনো অবস্থাতেই অস্ত্রসহ গাজায় টিকে থাকতে দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষায়, “শেষ টানেলটি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।” এর মাধ্যমে তিনি হামাসের সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ নির্মূলের বিষয়ে ইসরায়েলের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

এর আগে সোমবার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সচিব Yossi Fuchs জানান, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের জন্য সরকার ৬০ দিনের সময় দেবে। এই সময়ের মধ্যে শর্ত পূরণ না হলে পুনরায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। যদিও ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলের বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ গত জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে কার্যকর হয়েছে। এই ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহার, পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং একটি প্রশাসনিক কমিটির মাধ্যমে গাজা পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক অনড় অবস্থান শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

কাটজ যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘মহান মিত্র’ হিসেবে আখ্যা দিলেও স্বীকার করেছেন যে যুদ্ধ চলাকালে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য ছিল। এ কারণে ইসরায়েল এখন নিজস্বভাবে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদন বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে বাইরের ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ‘Shield of Israel’ নামে একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় আগামী এক দশকে অতিরিক্ত ৩৫০ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কাটজের মতে, শক্তিশালী অর্থনীতি ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, আবার নিরাপত্তা ছাড়া অর্থনীতিও টেকসই হয় না। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতে গাজায় ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং বেসামরিক অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে—যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: Anadolu Agency