রয়টার্সের এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, পাঠানো হচ্ছে হাজার হাজার সেনা
- Update Time : ০২:১২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৮৭ Time View

সময় যত গড়াচ্ছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা ততই ঘনীভূত হচ্ছে। এমন এক উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক চাঞ্চল্যকর এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য মার্কিন বাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দিলেই অভিযান শুরু হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তা সংবেদনশীল এই পরিকল্পনার কথা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করেছেন, এই তথ্য প্রকাশ্যে এলে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় প্রভাব পড়তে পারে। কারণ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর চেষ্টা চলছে।
সম্প্রতি ওমান-এ মার্কিন ও ইরানি কূটনীতিকদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা কমানোর পথ খোঁজা হয়। তবে এর আগে থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে এবং বারবার সামরিক হুমকিও উচ্চারণ করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের পাশাপাশি হাজার হাজার সেনা পাঠাচ্ছে। সেই সঙ্গে যুদ্ধবিমান, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং আধুনিক সমরাস্ত্রও পাঠানো হচ্ছে।
নর্থ ক্যারোলিনার একটি সামরিক ঘাঁটিতে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, “মাঝেমধ্যে আপনাকে কঠোর হতে হয়, এমনকি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করাও প্রয়োজন।” এই বক্তব্যকে অনেকে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, তেহরান প্রশ্নে প্রেসিডেন্টের সামনে ‘সব বিকল্প’ খোলা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র যে হামলা চালায়, তখন মধ্যপ্রাচ্যে দুইটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করা হয়েছিল। গত জুনে পরিচালিত ‘মিডনাইট হ্যামার’ ছিল মূলত এককালীন লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড্ডয়ন করা স্টিলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করা হয়।
তবে এবারের পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত ও জটিল বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তাদের একজনের দাবি, সম্ভাব্য এই অভিযানে শুধু পারমাণবিক স্থাপনাই নয়, বরং ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে এমন সামরিক পদক্ষেপ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ তেহরানের হাতে রয়েছে বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের পাল্টা হামলা আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত রূপ দিতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার জন্য তারা প্রস্তুত আছেন।
এদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তেহরানের ভূখণ্ডে আক্রমণ হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যেকোনো মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
উত্তেজনার এই প্রেক্ষাপটে গত বুধবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এই বৈঠককে ঘিরেও কূটনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সমন্বয় আরও জোরদার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
















