যারা মা-বোনদের বোরখা খুলে ফেলতে চায়, ক্ষমতায় গেলে তারা বাংলাদেশকে বিবস্ত্র করবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
- Update Time : ০৯:০৭:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৩৩ Time View

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, “যারা আজ আমার মা–বোনদের হিজাব ও বোরখা খুলে ফেলতে চায়, তারা ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশকে বিবস্ত্র করে ফেলবে।” তিনি অভিযোগ করেন, গত এক মাস ধরে একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে নারীদের ধর্মীয় পোশাক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের এক জনসভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সাইফ মোস্তাফিজের সমর্থনে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।
ভোটকেন্দ্র দখল প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “যারা ভোটকেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের বিরুদ্ধে গিয়ে এবার এমন চেষ্টা করলে আপনারা বাড়ি ফিরতে পারবেন না। আমাদের শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও ভোটাধিকার নিশ্চিত করবো।”
তিনি আরও বলেন, একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তরুণ প্রজন্মকে ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টা করছে। “ভারত চায় না তরুণরা জিতুক, ব্যবসায়ী কুলাঙ্গাররা চায় না, মিডিয়া মাফিয়া চায় না, পুরোনো বস্তাপচা রাজনীতিবিদরা চায় না—কারণ তরুণরা জিতলে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির রাজনীতি শেষ হয়ে যাবে,” বলেন তিনি। এ লড়াই জিততে উপস্থিত জনতাকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বিগত তিনটি নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে হয়েছে, মরা মানুষকে কবর থেকে তুলে এনে ভোট দেওয়া হয়েছে—এসব জনগণবিরোধী কাজে প্রশাসনের একাংশ জড়িত ছিল। এবার সেই অনাস্থা দূর করতে জনতার কাতারে নেমে এসে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করুন। জনগণ আপনাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে।”
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, “অনেক সাংবাদিক আমাদের কাছে এসে দুঃখের কথা বলেন—যে খবর তারা প্রচার করতে চান, দালাল মালিকানাধীন মিডিয়া তা প্রচার করতে দেয় না। ৫ আগস্টের পর আমরা যখন মন্দির–মসজিদ পাহারা দিয়েছি, অমুসলিম ভাইদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি, তখনই একটি পক্ষ টেলিভিশন ও সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করে মিডিয়া মাফিয়াগিরি শুরু করেছে।”
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন শাহজাদপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. মিজানুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন। এ ছাড়া ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
এদিন মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁনের হাত ধরে শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়ন বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।
















