যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানবে ইরান: আরাঘচি
- Update Time : ০৯:০৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৪০ Time View

ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডকে লক্ষ্যবস্তু করবে না, তবে এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানা হবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আব্বাস আরাঘচি। সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ পরে তাঁর সরকারি টেলিগ্রাম চ্যানেলেও প্রকাশ করা হয়। সেখানে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি আমাদের ওপর হামলা চালায়, তাহলে আমরা আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে হামলা করবো না। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলো আমাদের প্রতিক্রিয়ার লক্ষ্য হবে।”
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনার বিষয়ে তুলনামূলক আশাবাদী মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, ওমানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকলে পারমাণবিক ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে একটি ইতিবাচক কাঠামোতে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরাঘচি বলেন, “যদি আমরা এই ইতিবাচক পথে এগিয়ে যেতে পারি, তাহলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে একটি গঠনমূলক ও ইতিবাচক কাঠামো তৈরি করা সম্ভব।” তাঁর এই বক্তব্যে কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরান বিষয়ে আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ওমানে অনুষ্ঠিত দুই দেশের পরোক্ষ আলোচনার পর শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, “ইরান নিয়ে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনা উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হবে বলে আমি মনে করি।”
ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প আরও বলেন, “ইরানের বিষয়েও আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। মনে হচ্ছে ইরান একটি চুক্তি করতে চায়। আমরা আগামী সপ্তাহের শুরুতে আবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছি।”
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘মিডনাইট হ্যামার’ নামে একটি অভিযান চালিয়েছিল। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, তারা আর তেমন কিছুর মুখোমুখি হতে চায় না।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কড়াকড়ি অবস্থানও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
















