নিজেদের দল সামলাতে না পারলে দেশ চালাবে কীভাবে—বরিশালে জামায়াত আমির
- Update Time : ০৩:০২:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১২৯ Time View

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা নিজেদের দলই সামলাতে পারেন না, তারা কীভাবে দেশ পরিচালনা করবেন—এ প্রশ্ন আজ জনগণের। তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর নিরীহ মানুষদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে খাজনাপাতি তোলা হয়েছে, যার ফলে মানুষ এসব দলের প্রতি অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাতারহাট আরসি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমি জীবন দিতে রাজি আছি, কিন্তু কোনো মায়ের ইজ্জত দিতে রাজি নই।” তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বক্তব্য বিকৃত করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, তবে সেই ষড়যন্ত্র তাদের দিকেই ফিরে গেছে। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে দেশে মা ও মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা বিজয়ী হলে দেশে আর কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটবে না।” তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের আগে অহরহ এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এমন নির্মম ঘটনা আর কখনো ঘটতে দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো দলের একক বিজয় চায় না; তারা চায় ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। তার ভাষায়, “আমরা বিজয়ী হলে দেশের সব মানুষ বিজয়ী হবে।” সমান অধিকার ও ন্যায়ভিত্তিক বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা দুর্নীতির ডাল বা পাতা ধরে টান দেব না, আমরা ঘাড় ধরে টান দেব।” তিনি চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। তার দাবি, প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই অর্থ ফিরিয়ে আনতে হলে যারা লুটপাটে জড়িত নয়, তাদেরই রাষ্ট্রক্ষমতায় আনতে হবে।
বিচারের সমতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষ হোক বা রাষ্ট্রপতি—অপরাধ করলে সবার জন্যই একই বিচার কার্যকর হবে।
দলের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতে ইসলামীর অফিসে যেতে দেওয়া হয়নি, সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার, ঘরবাড়ি পোড়ানো, চাকরিচ্যুত করার মতো ঘটনা ঘটেছে। তবুও জামায়াত জনগণের পাশে থেকেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের হাতে অঢেল সম্পদ ছিল না, কিন্তু ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে আমরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।” ৫ আগস্টের পর সুযোগ পেয়েও তারা কারো বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেননি, কোনো মামলা করেননি—বরং মানুষের জানমালের পাহারাদার হিসেবে কাজ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “১২ তারিখের প্রথম ভোট হবে গণভোট—হ্যাঁ ভোট। পরের ভোট হবে দাঁড়িপাল্লায়।” তিনি জনগণের কাছে একবার সুযোগ চেয়ে বলেন, কোনো ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে বৈষম্য থাকবে না। যোগ্যতার ভিত্তিতেই দেশ পরিচালিত হবে। তার ভাষায়, “বাংলাদেশ থাকবে, তবে তার চরিত্র বদলে যাবে—এটি হবে গণমানুষের বাংলাদেশ।”
















