সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এপস্টেইন কেলেঙ্কারি: ‘প্রতিটি মুহূর্তের’ জন্য অনুতপ্ত বিল গেটস, চাইলেন ক্ষমা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:৪২:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৩০ Time View

 

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত দুই মাসে কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে যৌন পাচার–সংক্রান্ত তদন্তের বিপুল নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথিতে বিশ্বের প্রভাবশালী বহু ব্যক্তির নাম ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

এপস্টেইন ফাইলসে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের নাম উঠে আসার পর থেকে তাঁকে ঘিরে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে তাঁর নাম শিরোনামে আসছে। গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো সময় নিয়ে প্রকাশ্যে অনুতাপ প্রকাশ করেছেন বিল গেটস।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) অস্ট্রেলিয়ার নাইন নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস বলেন, “আমি এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য অনুতপ্ত। এ জন্য আমি ক্ষমা চাইছি।” তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর নামে প্রচারিত একটি ই–মেইল কখনো পাঠানো হয়নি এবং সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, “আমি জানি না, তিনি সেখানে কী ভাবছিলেন। তিনি কি কোনোভাবে আমাকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিলেন?”

সাক্ষাৎকারে বিল গেটস জানান, ২০১১ সালে তিনি একবার এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং পরবর্তী তিন বছরে কয়েকবার নৈশভোজে অংশ নেন। তবে তিনি কখনো এপস্টেইনের ক্যারিবীয় দ্বীপে যাননি এবং নারীদের সঙ্গে কোনো অবৈধ সম্পর্কে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে বিল গেটসের সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা গেটস গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর মতে, দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ও সময় কাটানো নিয়ে বিল গেটসের এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর বাকি রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি মার্কিন বিচার বিভাগ নতুন করে যে বিপুল নথি প্রকাশ করে, সেখানে পাওয়া একটি খসড়া ই–মেইলে এপস্টেইন দাবি করেন—বিল গেটস বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। ওই ই–মেইলে এপস্টেইন আরও লিখেছেন, বিল গেটসকে মাদক সংগ্রহ এবং রুশ নারীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পরবর্তী জটিলতা সামাল দিতেও তিনি সহায়তা করেছেন।

তবে এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন বিল গেটস এবং তিনি এগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করছেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এপস্টেইন কেলেঙ্কারি: ‘প্রতিটি মুহূর্তের’ জন্য অনুতপ্ত বিল গেটস, চাইলেন ক্ষমা

Update Time : ০২:৪২:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত দুই মাসে কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে যৌন পাচার–সংক্রান্ত তদন্তের বিপুল নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথিতে বিশ্বের প্রভাবশালী বহু ব্যক্তির নাম ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

এপস্টেইন ফাইলসে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের নাম উঠে আসার পর থেকে তাঁকে ঘিরে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে তাঁর নাম শিরোনামে আসছে। গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো সময় নিয়ে প্রকাশ্যে অনুতাপ প্রকাশ করেছেন বিল গেটস।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) অস্ট্রেলিয়ার নাইন নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস বলেন, “আমি এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য অনুতপ্ত। এ জন্য আমি ক্ষমা চাইছি।” তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর নামে প্রচারিত একটি ই–মেইল কখনো পাঠানো হয়নি এবং সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, “আমি জানি না, তিনি সেখানে কী ভাবছিলেন। তিনি কি কোনোভাবে আমাকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিলেন?”

সাক্ষাৎকারে বিল গেটস জানান, ২০১১ সালে তিনি একবার এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং পরবর্তী তিন বছরে কয়েকবার নৈশভোজে অংশ নেন। তবে তিনি কখনো এপস্টেইনের ক্যারিবীয় দ্বীপে যাননি এবং নারীদের সঙ্গে কোনো অবৈধ সম্পর্কে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে বিল গেটসের সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা গেটস গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর মতে, দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ও সময় কাটানো নিয়ে বিল গেটসের এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর বাকি রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি মার্কিন বিচার বিভাগ নতুন করে যে বিপুল নথি প্রকাশ করে, সেখানে পাওয়া একটি খসড়া ই–মেইলে এপস্টেইন দাবি করেন—বিল গেটস বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। ওই ই–মেইলে এপস্টেইন আরও লিখেছেন, বিল গেটসকে মাদক সংগ্রহ এবং রুশ নারীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পরবর্তী জটিলতা সামাল দিতেও তিনি সহায়তা করেছেন।

তবে এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন বিল গেটস এবং তিনি এগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করছেন।