সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের হাতে কি রাশিয়ার বিধ্বংসী এমআই-২৮ অ্যাটাক হেলিকপ্টার?

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:১৭:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৪৯ Time View

তেহরানের সামরিক বহরে রাশিয়ার অত্যাধুনিক এমআই-২৮ অ্যাটাক হেলিকপ্টার যুক্ত হয়েছে—এমন দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক ১২ দিনের সংঘাতের পর ইরান তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নিতে পারে।

একটি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিষয়ক ওয়েবসাইটের বরাতে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তেহরানের আকাশে রাশিয়ার তৈরি এমআই-২৮এনই (Mi-28NE) মডেলের একটি অ্যাটাক হেলিকপ্টার উড়তে দেখা গেছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও বিশ্লেষকরা এটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।

এছাড়া গত সপ্তাহে অনলাইনে প্রকাশিত কিছু ছবিতে তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে পার্স অ্যারোস্পেস সার্ভিসের একটি হ্যাঙ্গারে এই ধরনের হেলিকপ্টার অবস্থান করতে দেখা গেছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। এসব দৃশ্য ইরানের হাতে এমআই-২৮ থাকার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।

গত ৩ জানুয়ারি ইরানি সাংবাদিক মোহাম্মদ তাহেরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি এমআই-২৮ হেলিকপ্টারের ছবি পোস্ট করেন, যেখানে মরুভূমির উপযোগী ডেসার্ট ক্যামোফ্লেজ রঙ দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই রঙ ও নকশা ইঙ্গিত দেয় যে হেলিকপ্টারটি মধ্যপ্রাচ্যের পরিবেশের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

রাশিয়ার তৈরি এমআই-২৮ হেলিকপ্টারটি মূলত ভারী যুদ্ধ অভিযানের জন্য নকশা করা। এতে রয়েছে ৩০ মিলিমিটার অটোমেটিক কামান, ট্যাংক বিধ্বংসী গাইডেড মিসাইল ও রকেট ব্যবস্থা। উন্নত রাডার ও ইনফ্রারেড ক্যামেরার মাধ্যমে এটি রাত কিংবা দুর্গম যুদ্ধক্ষেত্রেও নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও আঘাত হানতে সক্ষম।

এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রাশিয়া থেকে ইরানে অন্তত পাঁচটি আইএল-৭৬ কার্গো বিমানের যাতায়াত ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটায় ধরা পড়েছে। যদিও এসব বিমানে কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সব মিলিয়ে, ইরানের হাতে এমআই-২৮ অ্যাটাক হেলিকপ্টার আসার বিষয়টি নিশ্চিত না হলেও একাধিক সূত্র ও দৃশ্যমান তথ্য নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইরানের হাতে কি রাশিয়ার বিধ্বংসী এমআই-২৮ অ্যাটাক হেলিকপ্টার?

Update Time : ০৩:১৭:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তেহরানের সামরিক বহরে রাশিয়ার অত্যাধুনিক এমআই-২৮ অ্যাটাক হেলিকপ্টার যুক্ত হয়েছে—এমন দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক ১২ দিনের সংঘাতের পর ইরান তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নিতে পারে।

একটি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিষয়ক ওয়েবসাইটের বরাতে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তেহরানের আকাশে রাশিয়ার তৈরি এমআই-২৮এনই (Mi-28NE) মডেলের একটি অ্যাটাক হেলিকপ্টার উড়তে দেখা গেছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও বিশ্লেষকরা এটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।

এছাড়া গত সপ্তাহে অনলাইনে প্রকাশিত কিছু ছবিতে তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে পার্স অ্যারোস্পেস সার্ভিসের একটি হ্যাঙ্গারে এই ধরনের হেলিকপ্টার অবস্থান করতে দেখা গেছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। এসব দৃশ্য ইরানের হাতে এমআই-২৮ থাকার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।

গত ৩ জানুয়ারি ইরানি সাংবাদিক মোহাম্মদ তাহেরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি এমআই-২৮ হেলিকপ্টারের ছবি পোস্ট করেন, যেখানে মরুভূমির উপযোগী ডেসার্ট ক্যামোফ্লেজ রঙ দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই রঙ ও নকশা ইঙ্গিত দেয় যে হেলিকপ্টারটি মধ্যপ্রাচ্যের পরিবেশের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

রাশিয়ার তৈরি এমআই-২৮ হেলিকপ্টারটি মূলত ভারী যুদ্ধ অভিযানের জন্য নকশা করা। এতে রয়েছে ৩০ মিলিমিটার অটোমেটিক কামান, ট্যাংক বিধ্বংসী গাইডেড মিসাইল ও রকেট ব্যবস্থা। উন্নত রাডার ও ইনফ্রারেড ক্যামেরার মাধ্যমে এটি রাত কিংবা দুর্গম যুদ্ধক্ষেত্রেও নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও আঘাত হানতে সক্ষম।

এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রাশিয়া থেকে ইরানে অন্তত পাঁচটি আইএল-৭৬ কার্গো বিমানের যাতায়াত ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটায় ধরা পড়েছে। যদিও এসব বিমানে কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সব মিলিয়ে, ইরানের হাতে এমআই-২৮ অ্যাটাক হেলিকপ্টার আসার বিষয়টি নিশ্চিত না হলেও একাধিক সূত্র ও দৃশ্যমান তথ্য নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।