সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের নতুন ভূগর্ভস্থ মিসাইল ঘাঁটি উন্মোচন, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা তেহরানের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:৪৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১২৭ Time View

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই মাটির নিচে নির্মিত একটি নতুন ও শক্তিশালী মিসাইল ঘাঁটি উন্মোচন করেছে ইরান। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনার তথ্য প্রকাশ করে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আব্দুল রহমান মৌসাভি এবং বিপ্লবী গার্ডের এরোস্পেস বিভাগের প্রধান সায়েদ মাজেদ মৌসাভি ঘাঁটিটি পরিদর্শন করে এর উদ্বোধন করেন। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার ও সম্ভাব্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের এই পদক্ষেপকে ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের প্রতি সরাসরি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ঘাঁটি পরিদর্শনের সময় আব্দুল রহমান মৌসাভি ইরানের মিসাইল সক্ষমতা ও সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো উসকানি বা হামলার জবাব দিতে ইরান এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাঁর ভাষায়, দেশটির প্রতিরক্ষা কৌশলে সাম্প্রতিক সময়ে আমূল পরিবর্তন এসেছে।

তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ইরান আর কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে নেই। বরং আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে শত্রুর ওপর দ্রুত ও ব্যাপক পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করেছে তেহরান।

মাটির নিচে নির্মিত এই ঘাঁটিতে অত্যাধুনিক ও দীর্ঘপাল্লার মিসাইল মজুত রয়েছে, যা প্রতিপক্ষের সামরিক পরিকল্পনাকে ভেঙে দিতে সক্ষম বলে দাবি করেছে ইরানি সামরিক কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, ভবিষ্যৎ যুদ্ধে অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ার বা অসম যুদ্ধকৌশলের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের আশপাশের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের জবাব হিসেবেই এই মিসাইল ঘাঁটির প্রদর্শনী বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের কথা বলা হচ্ছে, তবু তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে—হামলা হলে তারা কোনোভাবেই নীরব থাকবে না।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর হামলা চালানোর ভুল করে, তবে তার পরিণতি শুধু একটি দেশে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না এলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ও তাদের মিত্রদের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। ফলে নতুন এই ভূগর্ভস্থ মিসাইল ঘাঁটির উন্মোচন বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: ফার্স নিউজ

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইরানের নতুন ভূগর্ভস্থ মিসাইল ঘাঁটি উন্মোচন, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা তেহরানের

Update Time : ০২:৪৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই মাটির নিচে নির্মিত একটি নতুন ও শক্তিশালী মিসাইল ঘাঁটি উন্মোচন করেছে ইরান। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনার তথ্য প্রকাশ করে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আব্দুল রহমান মৌসাভি এবং বিপ্লবী গার্ডের এরোস্পেস বিভাগের প্রধান সায়েদ মাজেদ মৌসাভি ঘাঁটিটি পরিদর্শন করে এর উদ্বোধন করেন। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার ও সম্ভাব্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের এই পদক্ষেপকে ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের প্রতি সরাসরি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ঘাঁটি পরিদর্শনের সময় আব্দুল রহমান মৌসাভি ইরানের মিসাইল সক্ষমতা ও সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো উসকানি বা হামলার জবাব দিতে ইরান এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাঁর ভাষায়, দেশটির প্রতিরক্ষা কৌশলে সাম্প্রতিক সময়ে আমূল পরিবর্তন এসেছে।

তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ইরান আর কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে নেই। বরং আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে শত্রুর ওপর দ্রুত ও ব্যাপক পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করেছে তেহরান।

মাটির নিচে নির্মিত এই ঘাঁটিতে অত্যাধুনিক ও দীর্ঘপাল্লার মিসাইল মজুত রয়েছে, যা প্রতিপক্ষের সামরিক পরিকল্পনাকে ভেঙে দিতে সক্ষম বলে দাবি করেছে ইরানি সামরিক কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, ভবিষ্যৎ যুদ্ধে অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ার বা অসম যুদ্ধকৌশলের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের আশপাশের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের জবাব হিসেবেই এই মিসাইল ঘাঁটির প্রদর্শনী বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের কথা বলা হচ্ছে, তবু তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে—হামলা হলে তারা কোনোভাবেই নীরব থাকবে না।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর হামলা চালানোর ভুল করে, তবে তার পরিণতি শুধু একটি দেশে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না এলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ও তাদের মিত্রদের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। ফলে নতুন এই ভূগর্ভস্থ মিসাইল ঘাঁটির উন্মোচন বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: ফার্স নিউজ