সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুখ্যাত এপস্টিন ফাইলে জোহরান মামদানীর মায়ের নাম: সাকসেস পার্টির নেপথ্যে কী ছিল

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৭:০৭:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৩৫ Time View

 

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লক্ষের বেশি নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথিতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভারতীয় বংশোদ্ভূত চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ারের নাম উঠে এসেছে। তিনি বর্তমানে নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানীর মা হিসেবেও পরিচিত।

প্রকাশিত নথিতে যে ঘটনার উল্লেখ রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশ-বিদেশে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি মূলত ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মীরা নায়ার পরিচালিত ছবি ‘অ্যামেলিয়া’-র সাফল্য উপলক্ষে আয়োজিত একটি সাকসেস পার্টিকে কেন্দ্র করে।

২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যামেলিয়া’ ছবিটি নির্মিত হয়েছিল কিংবদন্তি নারী পাইলট অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্টের জীবন অবলম্বনে। ছবির নামভূমিকায় অভিনয় করেন হিলারি সোয়াঙ্ক এবং তাঁর স্বামীর চরিত্রে ছিলেন রিচার্ড গিয়ার। ছবির মুক্তির পর আয়োজিত সাকসেস পার্টিটির আয়োজক ছিলেন ঘিনসেল ম্যাক্সওয়েল—যিনি পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক যৌন পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন এবং জেফ্রি এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

এপস্টিন ফাইল অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ২১ অক্টোবর নিউ ইয়র্কে নিজের টাউনহাউসে এই পার্টির আয়োজন করেন ঘিনসেল ম্যাক্সওয়েল। সেখানে মীরা নায়ার উপস্থিত ছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ আছে। জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ পেগি সিগাল ওই পার্টি থেকে ফিরে জেফ্রি এপস্টিনকে পাঠানো এক ইমেলে লেখেন, তিনি সদ্য ঘিনসেলের টাউনহাউসে আয়োজিত ছবির আফটার পার্টি থেকে ফিরেছেন।

পেগি সিগালের ইমেলে দাবি করা হয়, ওই অনুষ্ঠানে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং পরিচালক মীরা নায়ারের নাম উল্লেখ করা হয়। যদিও ছবির প্রধান দুই অভিনেতা হিলারি সোয়াঙ্ক ও রিচার্ড গিয়ারকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাঁরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি বলে ইমেলে উল্লেখ রয়েছে।

ইমেলে পেগি আরও লেখেন, ব্যক্তিগতভাবে ছবিটি তাঁর খুব ভালো লাগেনি এবং সাধারণ দর্শকদের মধ্যেও ছবিটি তেমন সাড়া ফেলেনি—তবে নারীদের মধ্যে এটি বেশ প্রশংসা পেয়েছিল।

উল্লেখ্য, ওডিশার রাউরকেল্লায় জন্ম নেওয়া মীরা নায়ার পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হন এবং বর্তমানে নিউ ইয়র্কে বসবাস করছেন। ‘সালাম বম্বে’, ‘মনসুন ওয়েডিং’, ‘দ্য নেমসেক’-এর মতো আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত বহু ছবির নির্মাতা তিনি। কান চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন ক্যামেরা এবং ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন লায়ন জয় করে ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া প্রথম নারী পরিচালক হিসেবেও তিনি পরিচিত।

শুক্রবার প্রকাশিত এপস্টিন সংক্রান্ত নথিতে প্রায় ২ হাজার ভিডিও এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর আগেও প্রকাশিত নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিল ক্লিন্টনের নাম উঠে এসেছিল। নতুন নথিতে ট্রাম্প ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক বিতর্কিত তথ্যের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এপস্টিনের সঙ্গে পরিচয়ের কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছেন, তাঁর যৌন অপরাধ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। ২০০৮ সালে নাবালিকা ধর্ষণ ও পাচারের অভিযোগে এপস্টিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০১৯ সালের আগস্টে গ্রেপ্তার হওয়ার এক মাসের মধ্যেই কারাগারে তাঁর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কুখ্যাত এপস্টিন ফাইলে জোহরান মামদানীর মায়ের নাম: সাকসেস পার্টির নেপথ্যে কী ছিল

Update Time : ০৭:০৭:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লক্ষের বেশি নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথিতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভারতীয় বংশোদ্ভূত চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ারের নাম উঠে এসেছে। তিনি বর্তমানে নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানীর মা হিসেবেও পরিচিত।

প্রকাশিত নথিতে যে ঘটনার উল্লেখ রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশ-বিদেশে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি মূলত ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মীরা নায়ার পরিচালিত ছবি ‘অ্যামেলিয়া’-র সাফল্য উপলক্ষে আয়োজিত একটি সাকসেস পার্টিকে কেন্দ্র করে।

২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যামেলিয়া’ ছবিটি নির্মিত হয়েছিল কিংবদন্তি নারী পাইলট অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্টের জীবন অবলম্বনে। ছবির নামভূমিকায় অভিনয় করেন হিলারি সোয়াঙ্ক এবং তাঁর স্বামীর চরিত্রে ছিলেন রিচার্ড গিয়ার। ছবির মুক্তির পর আয়োজিত সাকসেস পার্টিটির আয়োজক ছিলেন ঘিনসেল ম্যাক্সওয়েল—যিনি পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক যৌন পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন এবং জেফ্রি এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

এপস্টিন ফাইল অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ২১ অক্টোবর নিউ ইয়র্কে নিজের টাউনহাউসে এই পার্টির আয়োজন করেন ঘিনসেল ম্যাক্সওয়েল। সেখানে মীরা নায়ার উপস্থিত ছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ আছে। জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ পেগি সিগাল ওই পার্টি থেকে ফিরে জেফ্রি এপস্টিনকে পাঠানো এক ইমেলে লেখেন, তিনি সদ্য ঘিনসেলের টাউনহাউসে আয়োজিত ছবির আফটার পার্টি থেকে ফিরেছেন।

পেগি সিগালের ইমেলে দাবি করা হয়, ওই অনুষ্ঠানে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং পরিচালক মীরা নায়ারের নাম উল্লেখ করা হয়। যদিও ছবির প্রধান দুই অভিনেতা হিলারি সোয়াঙ্ক ও রিচার্ড গিয়ারকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাঁরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি বলে ইমেলে উল্লেখ রয়েছে।

ইমেলে পেগি আরও লেখেন, ব্যক্তিগতভাবে ছবিটি তাঁর খুব ভালো লাগেনি এবং সাধারণ দর্শকদের মধ্যেও ছবিটি তেমন সাড়া ফেলেনি—তবে নারীদের মধ্যে এটি বেশ প্রশংসা পেয়েছিল।

উল্লেখ্য, ওডিশার রাউরকেল্লায় জন্ম নেওয়া মীরা নায়ার পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হন এবং বর্তমানে নিউ ইয়র্কে বসবাস করছেন। ‘সালাম বম্বে’, ‘মনসুন ওয়েডিং’, ‘দ্য নেমসেক’-এর মতো আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত বহু ছবির নির্মাতা তিনি। কান চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন ক্যামেরা এবং ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন লায়ন জয় করে ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া প্রথম নারী পরিচালক হিসেবেও তিনি পরিচিত।

শুক্রবার প্রকাশিত এপস্টিন সংক্রান্ত নথিতে প্রায় ২ হাজার ভিডিও এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর আগেও প্রকাশিত নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিল ক্লিন্টনের নাম উঠে এসেছিল। নতুন নথিতে ট্রাম্প ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক বিতর্কিত তথ্যের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এপস্টিনের সঙ্গে পরিচয়ের কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছেন, তাঁর যৌন অপরাধ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। ২০০৮ সালে নাবালিকা ধর্ষণ ও পাচারের অভিযোগে এপস্টিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০১৯ সালের আগস্টে গ্রেপ্তার হওয়ার এক মাসের মধ্যেই কারাগারে তাঁর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।