এপস্টেইন নথিতে ‘ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ’: কী বলছে মূল সূত্র
- Update Time : ১২:৩৭:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৬০ Time View

যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত প্রায় ৩০ লাখ পাতা নথি, ২ হাজার ভিডিও ও ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই বৃহত্তম নথি প্রকাশের ফলে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম আলোকচিত্র, ইমেইলসহ বিভিন্ন কাগজে উঠে এসেছে, যার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও উল্লেখিত হয়েছে। (Barta Bazar)
কিন্তু ভারপ্রাপ্ত সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলি জোর দিয়ে বলেছে যে এই নথিতে থাকা অনেক তথ্য “অনিশ্চিত, যাচাইহীন বা ভিত্তিহীন অভিযোগ”, এবং এগুলোর ওপর কোনো তাৎক্ষণিক আদালতি মামলা বা প্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তি নেই। (ABC News)
১. অভিযোগ ও নথির প্রকৃতি
নতুন প্রকাশিত নথির কিছু অংশে এমন কিছু অভিযোগ এসেছে যা সামাজিক মাধ্যম এবং অনলাইন দাখিলকারীর টিপ বা ই-মেইল সাবমিশন হিসেবে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, একটি টিপে দাবি করা হয়েছে যে প্রায় ৩৫ বছর আগে নিউ জার্সিতে একজন নারীকে তখনকার ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতে বাধ্য করা হয়েছিল। ওই সূত্রে বলা হয়েছে ওই নারীর বয়স ছিল ১৩-১৪ বছর। কিন্তু এই ধরনের টিপ বা অভিযোগ এখনও কোনো সরকারী তদন্তে যাচাই করা হয়নি এবং কোনো ফেডারেল মামলা হিসেবে প্রমাণিত হয়নি। (The Daily Beast)
ই-বিভাগে পাওয়া একাধিক ই-মেইলে ট্রাম্পের নাম এসেছে “Calendar Girls” বা পার্টির মতো ইভেন্টের সঙ্গে, যেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও অতিথির উপস্থিতির কথা লেখা ছিল। এসব নথি হিসেবে একটি ই-মেইল দাবি করেছে যে সেখানে ট্রাম্প কিছু যৌনকর্মের সংস্থান সম্পর্কেও জড়িত ছিলেন। তবে এমন দাবিগুলোর কোনো শক্তিপূর্ণ প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন হয়নি এবং ট্রাম্প নিজেও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। (Hindustan Times)
২. সরকারের বক্তব্য ও রিপোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায্য বিচার বিভাগের (DOJ) মুখপাত্ররা প্রকাশিত নথিগুলোর বেশিরভাগ অংশকে “অনিশ্চিত, ভিত্তিহীন বা অতি-সেন্সেশনাল” বলে বর্ণনা করেছেন। তারা অন্য এক প্রকাশিত নথির উদাহরণ দিয়েছেন যাতে একটি “জাল ডকুমেন্ট” বা উপহাসাত্মক তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। DOJ স্পষ্ট জানায় যে “যদি এগুলো সত্য হতো, তাহলে ইতোমধ্যেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অপরাধে মামলা করা হতো।” (ABC News)
৩. তদন্তের বাস্তব অবস্থা
এপস্টেইন নথি-সংক্রান্ত এই বিপুল প্রকাশ অনুষ্ঠিত হয়েছে Epstein Files Transparency Act আইনের অধীনে, এবং নথিগুলোর বেশিরভাগ অংশ—যেমন ভিকটিমদের পরিচয়, নাবালিকার ছবি ইত্যাদি—রেডাক্ট করা হয়েছে যাতে ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা রক্ষা হয়। এমনকি নাম এবং অধিকাংশ আলোকচিত্র সম্পূর্ণভাবে কালো করে দেওয়া হয়েছে। (The Washington Post)
ডাটাসেটে ট্রাম্পের নাম শত শতবার উল্লেখ থাকলেও, অন্তর্ভুক্ত তথ্যগুলির মধ্যে অনেকেই ঘটনা-ভিত্তিক নয়—অনেকে শুধুমাত্র ই-মেইল বা ঘনিষ্ঠ পরিচয়ের উল্লেখ। DOJ কর্মকর্তারা বলেছেন যে নথিগুলোর অধিকাংশ উল্লেখ “মিডিয়া ক্লিপিং, ইমেইল রেফারেন্স বা দ্বিতীয়হাতে আসা অভিযোগ”—যা অপরাধের নিশ্চিহ্ন প্রমাণ নয়। (The Times)
৪. বাস্তবে আদালতে প্রমাণিত কোনো মামলা নেই
বর্তমানে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই নতুন এপস্টেইন নথির ভিত্তিতে কোনও দায়েরকৃত ফেডারেল মামলা, ধর্ষণ মামলা বা শিশু নির্যাতন মামলা প্রমাণিত বা দায়িত্ব গঠিত হয়নি। যদিও পূর্বে আলাদা মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন অত্যাচারের কিছু অভিযোগ উঠেছিল, সেগুলোর বেশিরভাগই পরে প্রত্যাহার বা নিন্দা পেয়েছে। (Jagonews24)
সারসংক্ষেপ
এপস্টেইন ফাইলের নতুন প্রকাশে ট্রাম্পের নামের উল্লেখ থাকলেও, সেখানে থাকা অভিযোগগুলি যাচাইহীন এবং অনেকটাই ভিত্তিহীন বলে সরকারি পক্ষ নিজেই জানিয়েছে। কোনোকিছুই প্রমাণিতভাবে আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি, এবং বিদ্যমান প্রকাশিত নথি যাচাই-পরীক্ষার অভাবে অনিশ্চিত বিবেচিত হচ্ছে। (AP News)
















