ড্রপ সাইট নিউজের এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট আজই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা, লক্ষ্য সরকার পরিবর্তন
- Update Time : ০২:১০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১২২ Time View

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের হুমকি আগেই দিয়ে আসছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলও প্রকাশ্যে চাইছে, ট্রাম্প প্রশাসনের মাধ্যমে তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটুক। অন্যদিকে ইরান সরকার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং ইরানের ওপর হামলা মানেই তা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হিসেবে গণ্য হবে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই চাঞ্চল্যকর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম দ্য ড্রপ সাইট নিউজ। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশের নেতৃত্বকে জানিয়েছেন—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খুব শিগগিরই, এমনকি চলতি সপ্তাহান্তেই, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার অনুমোদন দিতে পারেন।
মিত্র দেশগুলোর কাছে দেওয়া এই ব্রিফিং অনুযায়ী, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্রপ সাইট নিউজকে বলেন, এই সম্ভাব্য অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বা ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নয়; বরং সরাসরি সরকার পরিবর্তনই এর প্রধান লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, ওই সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বর্তমানে কয়েকটি আরব সরকারের পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা হিসেবেও পরিচিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আরও জানান, পরিকল্পিত হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। একই সঙ্গে ইরানি সরকারের নেতৃত্বকে ‘শিরশ্ছেদ’ করার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করাই এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা—ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর সফল ও বড় ধরনের আঘাত হানা গেলে সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে ব্যাপক প্রতিবাদে অংশ নেবে। সেই গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত তেহরানে সরকার উৎখাতের পথ তৈরি হবে।
সাবেক ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই ইরানে হামলার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, ইরানে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইসরায়েল সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে এবং সম্ভাব্য নতুন সরকার পশ্চিমা বিশ্বের ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হবে।
ড্রপ সাইট নিউজের সঙ্গে কথা বলা দুইজন সিনিয়র আরব গোয়েন্দা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তাদের কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা “যেকোনো মুহূর্তে” শুরু হতে পারে।
















