সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণে কড়া নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:১২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১২৬ Time View

জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের অরক্ষিত অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সীমান্ত সুরক্ষায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা অযথা বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয় বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ নির্দেশনা দেন। আদালত বলেন, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) কাছে প্রয়োজনীয় সব জমি হস্তান্তর করতে হবে।

আদালত উল্লেখ করেন, যেসব জমির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতোমধ্যে অর্থ পরিশোধ করেছে, সেসব জমি দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়াই এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য। আন্তর্জাতিক সীমান্তের স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের দেরিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন বিচারপতিরা।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তের একটি বড় অংশ অরক্ষিত থাকায় অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। এ নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে আইনি টানাপোড়েন শুরু হয়। কেন্দ্রের অভিযোগ ছিল, কাঁটাতার নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে জমি হস্তান্তরে দেরি করছে।

শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কেন জমি অধিগ্রহণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। আদালত পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন, ‘সোশ্যাল ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ বা সামাজিক প্রভাব মূল্যায়নের মতো দাপ্তরিক অজুহাত দেখিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার স্থাপনের লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতোমধ্যে রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদান করেছে। যেসব এলাকায় এখনো রাজ্য মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মেলেনি, সেখানে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব কি না—সে বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় পক্ষকে বিস্তারিত হলফনামা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতিরা মত দেন, সীমান্ত সুরক্ষা কেবল একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; এটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই কোনো আইনি জটিলতা বা প্রশাসনিক শিথিলতা যেন এই প্রকল্পের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে রাজ্য সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সীমান্ত সুরক্ষা প্রকল্পে নতুন গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। আদালত আগামী ২ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন, যেখানে জমি হস্তান্তরের অগ্রগতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

এই নির্দেশনার ফলে বিএসএফ কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারবে, যা ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় একটি বড় পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণে কড়া নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

Update Time : ১২:১২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের অরক্ষিত অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সীমান্ত সুরক্ষায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা অযথা বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয় বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ নির্দেশনা দেন। আদালত বলেন, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) কাছে প্রয়োজনীয় সব জমি হস্তান্তর করতে হবে।

আদালত উল্লেখ করেন, যেসব জমির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতোমধ্যে অর্থ পরিশোধ করেছে, সেসব জমি দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়াই এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য। আন্তর্জাতিক সীমান্তের স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের দেরিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন বিচারপতিরা।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তের একটি বড় অংশ অরক্ষিত থাকায় অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। এ নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে আইনি টানাপোড়েন শুরু হয়। কেন্দ্রের অভিযোগ ছিল, কাঁটাতার নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে জমি হস্তান্তরে দেরি করছে।

শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কেন জমি অধিগ্রহণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। আদালত পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন, ‘সোশ্যাল ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ বা সামাজিক প্রভাব মূল্যায়নের মতো দাপ্তরিক অজুহাত দেখিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার স্থাপনের লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতোমধ্যে রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদান করেছে। যেসব এলাকায় এখনো রাজ্য মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মেলেনি, সেখানে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব কি না—সে বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় পক্ষকে বিস্তারিত হলফনামা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতিরা মত দেন, সীমান্ত সুরক্ষা কেবল একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; এটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই কোনো আইনি জটিলতা বা প্রশাসনিক শিথিলতা যেন এই প্রকল্পের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে রাজ্য সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সীমান্ত সুরক্ষা প্রকল্পে নতুন গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। আদালত আগামী ২ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন, যেখানে জমি হস্তান্তরের অগ্রগতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

এই নির্দেশনার ফলে বিএসএফ কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারবে, যা ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় একটি বড় পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ