ভারতে বিমান দুর্ঘটনা: উপ-মুখ্যমন্ত্রীসহ পাঁচজন নিহত
- Update Time : ১১:৩৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১২৫ Time View

ভারতের মহারাষ্ট্রে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় রাজ্যটির উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ারসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে পুনের বারামাতিতে অবতরণের সময় তার ব্যক্তিগত বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (ডিজিসিএ) দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন অজিত পাওয়ার ছাড়াও বিমানের দুই পাইলট ও তার নিরাপত্তা দলের সদস্যরা। স্থানীয় পৌরসভা নির্বাচনের আগে চারটি জনসভায় যোগ দিতে তিনি মুম্বাই থেকে বারামাতির উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভিএসআর কোম্পানির পরিচালিত ‘লিয়ারজেট ৪৫’ মডেলের ছোট বিমানটি সকাল ৮টায় মুম্বাই থেকে উড্ডয়ন করে। প্রায় ৪৫ মিনিটের ফ্লাইট শেষে বারামাতি বিমানবন্দরের কাছে অবতরণের সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়।
দুর্ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, বিধ্বস্ত বিমান থেকে আগুনের শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া উঠছে এবং ধ্বংসাবশেষ চারদিকে ছড়িয়ে আছে। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। উল্লেখযোগ্য যে, একই মডেলের একটি বিমান ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মুম্বাইয়েও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল।
এই আকস্মিক মৃত্যুতে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ শোকবার্তায় বলেন, অজিত পাওয়ার তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন নিবেদিতপ্রাণ জননেতা ছিলেন, যিনি সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও দরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়নে অবদান ছিল অনন্য।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। অমিত শাহ ইতোমধ্যেই পুনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।
৬৬ বছর বয়সী অজিত পাওয়ার ছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ শারদ পাওয়ারের ভাতিজা। ২০২৩ সালে এনসিপিতে বিভক্তির নেতৃত্ব দিয়ে তিনি এনডিএ জোটে যোগ দেন এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। সাম্প্রতিক সময়ে শারদ পাওয়ারের সঙ্গে পুনরায় ঐক্যের গুঞ্জন চলছিল এবং পিম্পরি চিঞ্চওয়াড় পৌর নির্বাচনে দুই পক্ষ একসঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শারদ পাওয়ার ও সুপ্রিয়া সুলে দিল্লি থেকে পুনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
এই দুর্ঘটনা ভারতের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
















