সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের বিদায় সন্নিকটে, নেই প্রস্তুত বিকল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৫৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৪০ Time View

দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে মহাকাশচারীদের আবাসস্থল ও গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) এখন বিদায়ের পথে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে আইএসএসের কার্যক্রম বন্ধ করার পরিকল্পনা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর বেসরকারি বিকল্প মহাকাশ স্টেশন পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি।

নাসার কৌশলগত লক্ষ্য হলো লো-আর্থ অরবিটে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর ধারাবাহিক মানব উপস্থিতি বজায় রাখা। কিন্তু বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও কারিগরি নির্দেশনা প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় পরবর্তী প্রজন্মের স্টেশন নির্মাণে যুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো পূর্ণমাত্রায় কাজ শুরু করতে পারেনি।

বর্তমানে নাসার সঙ্গে চুক্তির দৌড়ে চারটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় রয়েছে—ভয়েজার টেকনোলজিস, অ্যাক্সিওম স্পেস, ব্লু অরিজিন এবং ভাস্ট স্পেস। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষ দিকে নাসা এক বা দুটি প্রতিষ্ঠানকে বড় পরিসরের চুক্তি দিতে পারে। তবে আইএসএসের কার্যকাল শেষ হতে আর মাত্র পাঁচ বছর বাকি থাকলেও এখনো বাণিজ্যিক স্টেশনের জন্য প্রয়োজনীয় বিস্তারিত প্রযুক্তিগত নির্দেশনা চূড়ান্ত না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সময় ও সক্ষমতার চাপ বাড়ছে।

এই প্রতিযোগিতায় ভাস্ট স্পেস তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি করছে। প্রতিষ্ঠানটি ‘হেভেন-১’ নামে একটি ছোট আকারের বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশন নির্মাণ করছে, যা মূলত স্বল্পমেয়াদি মিশনের জন্য নকশা করা। স্টেশনটি ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভাস্ট স্পেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাক্স হাফট জানিয়েছেন, হেভেন-১–এর মূল কাঠামো নির্মাণ শেষ হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উৎক্ষেপণের পর এটি প্রথমে মানববিহীন অবস্থায় মহাকাশে কার্যক্রম শুরু করবে। পৃথিবী থেকে নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের পর সবকিছু সন্তোষজনক হলে স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলে করে নভোচারীদের সেখানে পাঠানো হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্টেশনটি প্রায় তিন বছর সক্রিয় থাকবে এবং এতে দুই সপ্তাহ মেয়াদি একাধিক মানব মিশন পরিচালিত হবে।

মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের মতে, নাসা যদি দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়, তবে আইএসএসের অবসর এবং নতুন বাণিজ্যিক স্টেশনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাঝখানে একটি বড় শূন্যতা তৈরি হতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মহাকাশে পশ্চিমা দেশগুলোর কৌশলগত প্রভাবও দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আইএসএসের মেয়াদ সাময়িকভাবে বাড়ানো হবে নাকি দ্রুত বেসরকারি মহাকাশ স্টেশনের ওপর নির্ভর করা হবে—এই বিষয়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই নাসার পক্ষ থেকে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, বিবিসি

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের বিদায় সন্নিকটে, নেই প্রস্তুত বিকল্প

Update Time : ১১:৫৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে মহাকাশচারীদের আবাসস্থল ও গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) এখন বিদায়ের পথে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে আইএসএসের কার্যক্রম বন্ধ করার পরিকল্পনা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর বেসরকারি বিকল্প মহাকাশ স্টেশন পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি।

নাসার কৌশলগত লক্ষ্য হলো লো-আর্থ অরবিটে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর ধারাবাহিক মানব উপস্থিতি বজায় রাখা। কিন্তু বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও কারিগরি নির্দেশনা প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় পরবর্তী প্রজন্মের স্টেশন নির্মাণে যুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো পূর্ণমাত্রায় কাজ শুরু করতে পারেনি।

বর্তমানে নাসার সঙ্গে চুক্তির দৌড়ে চারটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় রয়েছে—ভয়েজার টেকনোলজিস, অ্যাক্সিওম স্পেস, ব্লু অরিজিন এবং ভাস্ট স্পেস। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষ দিকে নাসা এক বা দুটি প্রতিষ্ঠানকে বড় পরিসরের চুক্তি দিতে পারে। তবে আইএসএসের কার্যকাল শেষ হতে আর মাত্র পাঁচ বছর বাকি থাকলেও এখনো বাণিজ্যিক স্টেশনের জন্য প্রয়োজনীয় বিস্তারিত প্রযুক্তিগত নির্দেশনা চূড়ান্ত না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সময় ও সক্ষমতার চাপ বাড়ছে।

এই প্রতিযোগিতায় ভাস্ট স্পেস তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি করছে। প্রতিষ্ঠানটি ‘হেভেন-১’ নামে একটি ছোট আকারের বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশন নির্মাণ করছে, যা মূলত স্বল্পমেয়াদি মিশনের জন্য নকশা করা। স্টেশনটি ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভাস্ট স্পেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাক্স হাফট জানিয়েছেন, হেভেন-১–এর মূল কাঠামো নির্মাণ শেষ হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উৎক্ষেপণের পর এটি প্রথমে মানববিহীন অবস্থায় মহাকাশে কার্যক্রম শুরু করবে। পৃথিবী থেকে নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের পর সবকিছু সন্তোষজনক হলে স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলে করে নভোচারীদের সেখানে পাঠানো হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্টেশনটি প্রায় তিন বছর সক্রিয় থাকবে এবং এতে দুই সপ্তাহ মেয়াদি একাধিক মানব মিশন পরিচালিত হবে।

মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের মতে, নাসা যদি দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়, তবে আইএসএসের অবসর এবং নতুন বাণিজ্যিক স্টেশনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাঝখানে একটি বড় শূন্যতা তৈরি হতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মহাকাশে পশ্চিমা দেশগুলোর কৌশলগত প্রভাবও দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আইএসএসের মেয়াদ সাময়িকভাবে বাড়ানো হবে নাকি দ্রুত বেসরকারি মহাকাশ স্টেশনের ওপর নির্ভর করা হবে—এই বিষয়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই নাসার পক্ষ থেকে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, বিবিসি