ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা: সব ফ্রন্টে প্রস্তুত ইসরায়েল
- Update Time : ০৫:০২:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৬২ Time View

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে তেহরান যদি ইসরায়েলের ওপর পাল্টা হামলা চালায়, সে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, সম্ভাব্য যে কোনো হুমকি প্রতিরোধে তারা সব ফ্রন্টে উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
ইসরায়েলের নর্দান কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল রাফি মিলো রোববার (২৫ জানুয়ারি) বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং শক্তিবৃদ্ধির বিষয়টি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। চ্যানেল ১২ নিউজে প্রচারিত বক্তব্যে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরু হলে ইরান ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে—এই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই আইডিএফ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মিলো আরও বলেন, বিশেষ করে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এই সংঘাতে যুক্ত হবে কি না, সে বিষয়েও কড়া নজর রাখা হচ্ছে। যে কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা গণ-ফাঁসি কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করবে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে অবস্থানকালে তিনি জানান, ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে একটি বড় নৌবহর ইরানের দিকে পাঠানো হচ্ছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও তার সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলো বর্তমানে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে। অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের হামলাকে তারা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে এবং তার জবাব দেবে।
এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচলেও। ইসরায়েলি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রধান শমুয়েল জাকাই বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, অঞ্চলটি এখন ‘অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ের’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হলে প্রয়োজনে ইসরায়েলের আকাশসীমা আবারও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাতের সময় আকাশসীমা বন্ধ থাকায় হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছিলেন। বর্তমানে পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্তর্জাতিক অনেক এয়ারলাইনস মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট বাতিল বা সীমিত করতে শুরু করেছে। ডাচ এয়ারলাইনস কেএলএম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তেল আবিব, দুবাই ও রিয়াদে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করেছে এবং ইরাক, ইরান ও ইসরায়েলের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এয়ার ফ্রান্স দুবাইয়ে সেবা পুনরায় চালু করলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ইসরায়েলের এল আল, আরকিয়া ও ইসরাইর এয়ারলাইনস যাত্রীদের জন্য টিকিট বাতিলের শর্ত শিথিল করেছে। আবহাওয়া-সংক্রান্ত কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ফ্লাইট বাতিল হলেও বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যাত্রী ও এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সূত্র: দ্য টাইমস অফ ইসরায়েল
















