সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে বড় সামরিক হামলার প্রস্তুতি প্রায় শেষ: ইসরায়েলের দাবি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:১৮:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৪৩ Time View

 

যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী ইরানে একটি বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে—এমন দাবি করেছে ইসরায়েল। রোববার (২৫ জানুয়ারি) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ এক প্রতিবেদনে জানায়, মার্কিন বাহিনীর মোতায়েন প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি গত আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি, তবুও সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েল অভ্যন্তরীণভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, আপাতত কোনো নতুন গণ-নির্দেশনা জারি করা হয়নি; তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হবে।

মার্কিন শক্তিবৃদ্ধির অংশ হিসেবে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজার এবং একাধিক যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি অঞ্চলজুড়ে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করেছিলেন, একটি ‘বিশাল নৌবহর’ ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের পর থেকেই তিনি বারবার সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন। হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানায়, অভ্যন্তরীণ সহিংসতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার গ্রেপ্তার হয়েছে—ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকায় এসব তথ্য যাচাই করা কঠিন।

এদিকে ইরান কড়া প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, যেকোনো মার্কিন হামলাকে তারা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করবে। আইআরজিসির কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর বলেন, তেহরান ‘ট্রিগারে আঙুল’ দিয়ে প্রস্তুত রয়েছে এবং উসকানির পূর্ণাঙ্গ ও বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে।

এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক দিন মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; সরাসরি সংঘাতে রূপ নিলে তা আঞ্চলিক রাজনীতি ও অর্থনীতিকে গুরুতর ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। কূটনৈতিক পথ সংকুচিত হওয়ায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররাও সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও নিরাপত্তায়।

সূত্র: শাফাক নিউজ, চ্যানেল ১২

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইরানে বড় সামরিক হামলার প্রস্তুতি প্রায় শেষ: ইসরায়েলের দাবি

Update Time : ০২:১৮:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

 

যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী ইরানে একটি বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে—এমন দাবি করেছে ইসরায়েল। রোববার (২৫ জানুয়ারি) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ এক প্রতিবেদনে জানায়, মার্কিন বাহিনীর মোতায়েন প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি গত আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি, তবুও সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েল অভ্যন্তরীণভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, আপাতত কোনো নতুন গণ-নির্দেশনা জারি করা হয়নি; তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হবে।

মার্কিন শক্তিবৃদ্ধির অংশ হিসেবে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজার এবং একাধিক যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি অঞ্চলজুড়ে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করেছিলেন, একটি ‘বিশাল নৌবহর’ ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের পর থেকেই তিনি বারবার সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন। হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানায়, অভ্যন্তরীণ সহিংসতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার গ্রেপ্তার হয়েছে—ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকায় এসব তথ্য যাচাই করা কঠিন।

এদিকে ইরান কড়া প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, যেকোনো মার্কিন হামলাকে তারা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করবে। আইআরজিসির কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর বলেন, তেহরান ‘ট্রিগারে আঙুল’ দিয়ে প্রস্তুত রয়েছে এবং উসকানির পূর্ণাঙ্গ ও বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে।

এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক দিন মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; সরাসরি সংঘাতে রূপ নিলে তা আঞ্চলিক রাজনীতি ও অর্থনীতিকে গুরুতর ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। কূটনৈতিক পথ সংকুচিত হওয়ায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররাও সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও নিরাপত্তায়।

সূত্র: শাফাক নিউজ, চ্যানেল ১২