ভারতে বাংলা বলার ‘অপরাধে’ ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো তিন বাঙালি কিশোরকে
- Update Time : ০৫:০৯:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১২৯ Time View

জীবন-জীবিকার তাগিদে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভিনরাজ্যে কাজে যাওয়ার পথে চরম হয়রানির শিকার হয়েছে তিন বাঙালি কিশোর। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হিন্দিতে ঠিকমতো উত্তর দিতে না পারায় এবং নিজেদের মধ্যে বাংলায় কথা বলার কারণে ছত্তিশগড়ের একটি রেলস্টেশনে ট্রেন থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে তাদের আটক করা হয়।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ পায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামের ঝামটপুর গ্রামের বাসিন্দা তিন কিশোর—কার্তিক দাস (১৬), রাকেশ দাস ও রতন দাস—গত শুক্রবার গুজরাটের সুরাটে একটি রুটির কারখানায় কাজের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। কার্তিক ও রাকেশ দুজনেই নবম শ্রেণির ছাত্র। তারা মোট নয়জনের একটি দলের সঙ্গে যাত্রা শুরু করে।
কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় পরিবারের কাছে খবর আসে, ছত্তিশগড়ের রায়পুর স্টেশনে রেল পুলিশ (জিআরপি) ওই তিন কিশোরকে আটক করেছে। পরিবারের অভিযোগ, ট্রেনের ভেতরে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে কিশোররা হিন্দিতে সাবলীলভাবে উত্তর দিতে পারেনি। একপর্যায়ে তারা নিজেদের মধ্যে বাংলায় কথা বললে পুলিশ তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে এবং ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয়।
যদিও একই দলের অপর এক সদস্য ফোনে জানান, কিশোররা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় এবং সঙ্গে সঙ্গে বয়সের বৈধ প্রমাণপত্র দেখাতে না পারায় তাদের আটক করা হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, প্রকৃত সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভাষা—বাংলা ভাষায় কথা বলাই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে পরিকল্পিতভাবে বাঙালি শ্রমিকদের ভাষাগত পরিচয়ের কারণে নিপীড়নের শিকার হতে হচ্ছে।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কেতুগ্রামের বিধায়ক শেখ শাহনাওয়াজ বলেন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাঙালি শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। আমরা প্রশাসনিক স্তরে যোগাযোগ করছি, যাতে ওই কিশোরদের দ্রুত ও নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে আনা যায়।”
জানা গেছে, আটক কার্তিক ও রাকেশের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। অভাবের তাড়নায় পড়াশোনার পাশাপাশি কিছুটা আয় করার আশায় তারা সুরাটে যাচ্ছিল। কিন্তু মাঝপথে এমন ঘটনার মুখোমুখি হওয়ায় পরিবারগুলো গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কে ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ছত্তিশগড় পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কিশোরদের মুক্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
















