ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে চীনের জন্মহার
- Update Time : ১২:০৬:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৪২ Time View

২০২৫ সালে চীনের জন্মহার ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে, যা দেশটির দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। টানা চতুর্থ বছরের মতো জনসংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির ওপর আগামী কয়েক দশকে বাড়তি চাপ পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো সোমবার প্রকাশিত তথ্যে জানায়, ২০২৫ সালে প্রতি এক হাজার জনে জন্মহার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫.৬৩। এর আগের বছর ২০২৩ সালে এই হার ছিল ৬.৩৯। অর্থাৎ ২০২৪ সালে জন্মহারে যে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল, সেটি ছিল সাময়িক ব্যতিক্রম; ২০১৬ সালের পর থেকে চলমান নিম্নমুখী প্রবণতায় এটি কোনো স্থায়ী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় না।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনে জন্মেছে মাত্র ৭.৯২ মিলিয়ন শিশু, বিপরীতে মৃত্যু হয়েছে ১১.৩১ মিলিয়ন মানুষের। ফলে এক বছরে দেশটির মোট জনসংখ্যা কমেছে ৩.৩৯ মিলিয়ন। এর ফলে ২০২৫ সালে চীনের মোট জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪০ কোটিতে, যা এখনো ভারতের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম হলেও ধারাবাহিক পতনের মধ্যেই রয়েছে।
জনসংখ্যা হ্রাসের মধ্যেও ২০২৫ সালে চীনের অর্থনীতি প্রায় ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরকারের নির্ধারিত বার্ষিক লক্ষ্যের কাছাকাছি। এই প্রবৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে রপ্তানি খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্বল ভোগব্যয়ের চাপ সত্ত্বেও গত বছর চীন রেকর্ড ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে।
তবে অর্থনীতির ভেতরের চিত্র পুরোপুরি ইতিবাচক নয়। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে অর্থনৈতিক গতি কিছুটা মন্থর হয়েছে। ওই সময়ে বার্ষিক ভিত্তিতে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৪.৫ শতাংশ, যা ২০২২ সালের শেষের পর সর্বনিম্ন ত্রৈমাসিক প্রবৃদ্ধি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
তবুও সরকারি কর্মকর্তারা অর্থনীতির সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়েছেন। জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রধান কাং ই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বহির্বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও চীনের অর্থনীতি চাপ সহ্য করে স্থিতিশীল অগ্রগতি বজায় রেখেছে। তাঁর ভাষায়, ২০২৫ সালে চীন উচ্চমানের উন্নয়নের পথে নতুন সাফল্য অর্জন করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি জন্মহার ও জনসংখ্যা হ্রাসের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় চীনকে আরও গভীর ও কাঠামোগত নীতিগত পরিবর্তনের দিকে যেতে হবে।
















