গাজায় ‘শান্তি পর্ষদে’ এরদোয়ান ও সিসিকে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প
- Update Time : ১১:২৯:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১২৭ Time View

গাজায় ‘শান্তি পর্ষদে’ এরদোয়ান ও সিসিকে চান ডোনাল্ড ট্রাম গাজায় যুদ্ধবিরতি–পরবর্তী শাসনব্যবস্থা ও পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকির লক্ষ্যে গঠিত প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে তুরস্ক ও মিসরের রাষ্ট্রপ্রধানকে অন্তর্ভুক্ত করতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ উদ্দেশ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে আঙ্কারা ও কায়রো—উভয় পক্ষই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গাজা সংকট সমাধানে নিজের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত বছরের সেপ্টেম্বরেই এই ‘শান্তি পর্ষদ’ গঠনের ধারণা সামনে আনেন ট্রাম্প। পরে অক্টোবরে পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস সম্মতি জানায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজায় একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন করা হবে, যার কার্যক্রম তদারকি করবে এই বোর্ড অব পিস।
হোয়াইট হাউস গত শুক্রবার শান্তি পর্ষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের একটি তালিকা প্রকাশ করে। এতে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব। এ ছাড়া তালিকায় আছে মার্কিন ব্যবসায়ী মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, ট্রাম্পের উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল এবং জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভের নাম। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শান্তি পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকবেন স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এ প্রেক্ষাপটে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের এক মুখপাত্র শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, এক দিন আগে ট্রাম্পের কাছ থেকে এরদোয়ান শান্তি পর্ষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। একই দিনে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রেসিডেন্ট আল-সিসিকেও এই পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং বিষয়টি মিসর সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। খাদ্যসংকটসহ ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে উপত্যকাটি এবং প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। জাতিসংঘের তদন্ত কমিটিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশেষজ্ঞ ইসরায়েলের অভিযানে ‘গণহত্যা’র অভিযোগ তুলেছে। তবে ইসরায়েল দাবি করে, হামাসের ওই দিনের হামলার জবাব ও আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেই তারা সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই শান্তি পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। পর্ষদের অধীনে গঠিত অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রথম অগ্রাধিকার হবে গাজাবাসীর জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম নিশ্চিত করা। তবে শান্তি পর্ষদ ঘোষণার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় এই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।
এদিকে আল-জাজিরা ও বিভিন্ন বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এই বোর্ডকে কেবল গাজা সংকটে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না; বরং ভবিষ্যতে বৈশ্বিক সংঘাত মোকাবিলায় একটি দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক কাঠামো হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী। ট্রাম্পের পাঠানো আমন্ত্রণপত্র ও সংযুক্ত ‘চার্টার’-এ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী সংঘাত নিরসনে ‘নতুন ও সাহসী পথ’ অনুসরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে কূটনৈতিক মহলে এই উদ্যোগ নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক কূটনীতিকের মন্তব্যে একে ‘ট্রাম্পের জাতিসংঘ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, এতে জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির প্রতিফলন নেই। যদিও হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, শান্তি পর্ষদ জাতিসংঘের বিকল্প নয়; বরং এটি একটি পরিপূরক উদ্যোগ, যার বিস্তৃত ভূমিকা আপাতত ‘আকাঙ্ক্ষামূলক’ পর্যায়েই রয়েছে।
এ ছাড়া পর্ষদের সদস্যপদ ঘিরে অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সদস্য হতে দেশগুলোকে এক বিলিয়ন ডলার দিতে বলা হচ্ছে। তবে হোয়াইট হাউস এই অভিযোগকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে নাকচ করে জানিয়েছে, সদস্য হওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ফি নেই, যদিও ‘স্থায়ী সদস্যপদ’ পেতে আর্থিক অঙ্গীকার থাকতে পারে।
ট্যাগস: গাজা যুদ্ধ, বোর্ড অব পিস, ডোনাল্ড ট্রাম্প, এরদোয়ান, আল সিসি, ফিলিস্তিন ইসরায়েল সংকট, মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতি, গাজা পুনর্গঠন, যুদ্ধবিরতি, আন্তর্জাতিক কূটনীতি
















