মাস্কের কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করলেন তার সন্তানের মা
- Update Time : ০৪:৫৭:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১২১ Time View

ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে মামলা করেছেন তার ১৬ মাস বয়সী ছেলে রোমুলাসের মা অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার। লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যাশলির দাবি, মাস্কের এআই চ্যাটবট ‘গ্রক’ ব্যবহার করে তার নামে অত্যন্ত অবমাননাকর ও যৌন উত্তেজক ডিপফেক ছবি তৈরি ও ছড়ানো হয়েছে, যা তার সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করেছে এবং গভীর মানসিক বিপর্যয়ের কারণ হয়েছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই বহুল আলোচিত আইনি লড়াইয়ের বিস্তারিত উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা ইতোমধ্যে এক্সএআইকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এবং এ ধরনের অনৈতিক ও সম্ভাব্য অবৈধ কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সিটির একটি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। তার অভিযোগ, গত বছর থেকেই গ্রক দ্বারা তৈরি বিকৃত ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। বিষয়টি তিনি এক্স ও এক্সএআই কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও শুরুতে জানানো হয়, এসব ছবি নীতিমালার পরিপন্থী নয়।
পরবর্তীতে তার ছবি বিনা অনুমতিতে ব্যবহার না করার আশ্বাস দেওয়া হলেও উল্টো তার এক্স প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন বাতিল করা হয় এবং ভেরিফিকেশন চিহ্ন প্রত্যাহার করা হয়—যাকে তিনি প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। অ্যাশলি বলেন, গ্রক যেভাবে তার কুরুচিপূর্ণ ছবি তৈরি ও ছড়িয়ে দিচ্ছে, তাতে তিনি এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং তার মানসিক যন্ত্রণা ক্রমেই বাড়ছে।
এদিকে, মামলার জবাবে এক্সএআই টেক্সাসের একটি ফেডারেল আদালতে পাল্টা মামলা করেছে। কোম্পানির দাবি, অ্যাশলি ব্যবহারকারী চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছেন, যেখানে যেকোনো আইনি বিরোধ টেক্সাসের আদালতেই নিষ্পত্তির কথা বলা ছিল।
অ্যাশলির আইনজীবী ক্যারি গোল্ডবার্গ এই পাল্টা মামলাকে নজিরবিহীন আখ্যা দিয়ে জানান, তারা নিউইয়র্কেই আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নারীদের সম্মতি ছাড়া যৌনতাপূর্ণ কৃত্রিম ছবি তৈরি করা শুধু ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন নয়, বরং জননিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক হুমকি।
ইলন মাস্কের এআই চ্যাটবট ‘গ্রক’ বর্তমানে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তীব্র সমালোচনার মুখে। যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতসহ এশিয়ার একাধিক দেশ—ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও জাপান—ইতোমধ্যে এর ডিপফেক কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। শুক্রবার জাপানি কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ধরনের আপত্তিকর কনটেন্ট বন্ধে তারা এক্সের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা বিবেচনা করছে।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার বলেন, এটি কেবল তার ব্যক্তিগত লড়াই নয়; বরং এমন এআই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম, যা জবাবদিহি ছাড়াই নারী ও শিশুদের অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করছে।
সূত্র: আল জাজিরা
















