সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি স্থগিত করল ইরান

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:০৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৪৩ Time View

 

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৮০০ জন বিক্ষোভকারীর ফাঁসি কার্যকর করা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ব্রিফিংয়ে ক্যারোলিন লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ইরান সরকার ৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা আপাতত স্থগিত করেছে। তিনি বলেন, ‘এই বিক্ষোভকারীদের আজ (বুধবার) ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল, তবে শেষ মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ইরান।’

লেভিট আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর চাপের মুখেই ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

প্রায় ২০ দিন ধরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ইরান কার্যত অস্থির হয়ে উঠেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার তাদের প্রায় ৪৭ বছরের শাসনামলে এত ব্যাপক ও তীব্র আন্দোলনের মুখে আগে কখনো পড়েনি বলে বিশ্লেষকদের মত।

এই বিক্ষোভের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি। দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি মুদ্রা রিয়াল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ রিয়েল, যা দেশটির অর্থনৈতিক সংকটের গভীরতাই প্রকাশ করে।

জাতীয় মুদ্রার এই চরম অবমূল্যায়নের কারণে ইরানে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। ওই ধর্মঘট থেকেই দেশব্যাপী বিক্ষোভের সূচনা হয়। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলন।

দিন যত গড়িয়েছে, বিক্ষোভের তীব্রতাও তত বেড়েছে। বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের কারণে দেশটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরান সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র: এএফপি

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি স্থগিত করল ইরান

Update Time : ০৫:০৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

 

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৮০০ জন বিক্ষোভকারীর ফাঁসি কার্যকর করা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ব্রিফিংয়ে ক্যারোলিন লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ইরান সরকার ৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা আপাতত স্থগিত করেছে। তিনি বলেন, ‘এই বিক্ষোভকারীদের আজ (বুধবার) ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল, তবে শেষ মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ইরান।’

লেভিট আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর চাপের মুখেই ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

প্রায় ২০ দিন ধরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ইরান কার্যত অস্থির হয়ে উঠেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার তাদের প্রায় ৪৭ বছরের শাসনামলে এত ব্যাপক ও তীব্র আন্দোলনের মুখে আগে কখনো পড়েনি বলে বিশ্লেষকদের মত।

এই বিক্ষোভের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি। দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি মুদ্রা রিয়াল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ রিয়েল, যা দেশটির অর্থনৈতিক সংকটের গভীরতাই প্রকাশ করে।

জাতীয় মুদ্রার এই চরম অবমূল্যায়নের কারণে ইরানে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। ওই ধর্মঘট থেকেই দেশব্যাপী বিক্ষোভের সূচনা হয়। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলন।

দিন যত গড়িয়েছে, বিক্ষোভের তীব্রতাও তত বেড়েছে। বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের কারণে দেশটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরান সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র: এএফপি