সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের নীতিতে নতুন গতি, বৈশ্বিক মঞ্চে শক্তিশালী হচ্ছে চীন

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৪৪ Time View

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস (ECFR)-এর এক সমীক্ষা অনুযায়ী, এই নীতির ফলে চীন আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং ধীরে ধীরে একটি ‘প্রকৃত বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা’র সূচনা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ব্রিটেন ও ব্রাজিলসহ মোট ২১টি দেশের ২৫ হাজার ৯৪৯ জন মানুষের ওপর পরিচালিত জরিপ শেষে থিংক ট্যাঙ্কটি জানায়, ট্রাম্পের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের এক বছর পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ মনে করছেন—চীন এখন আরও শক্তিশালী অবস্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক যান (ইভি) ও আধুনিক শিল্পখাতে চীন বর্তমানে বিশ্ব নেতৃত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবও দ্রুত বাড়ছে।

সমীক্ষায় দেখা যায়, প্রায় সব অঞ্চলেই মানুষ ধারণা করছেন যে আগামী এক দশকে চীনের বৈশ্বিক প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ৮৩ শতাংশ, ব্রাজিলে ৭২ শতাংশ, রাশিয়ায় ৫৭ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ৫৪ শতাংশ এবং ব্রিটেনে ৫০ শতাংশ উত্তরদাতা এই মত প্রকাশ করেছেন।

তবে থিংক ট্যাঙ্কটি জানিয়েছে, ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার অধিকাংশ মানুষ এখনো চীনকে প্রতিদ্বন্দ্বী কিংবা শত্রু হিসেবেই দেখছেন। বিপরীতে, গত বছরের তুলনায় দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে চীনকে মিত্র হিসেবে দেখার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে ভারতে। নয়াদিল্লি ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে জটিল ও তিক্ত হলেও, বর্তমানে ভারতের প্রায় অর্ধেক মানুষ চীনকে হয় মিত্র, নয়তো একটি ‘অপরিহার্য অংশীদার’ হিসেবে বিবেচনা করছেন বলে জরিপে উঠে এসেছে।
সূত্র: এসসিএমপি।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ট্রাম্পের নীতিতে নতুন গতি, বৈশ্বিক মঞ্চে শক্তিশালী হচ্ছে চীন

Update Time : ০৪:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস (ECFR)-এর এক সমীক্ষা অনুযায়ী, এই নীতির ফলে চীন আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং ধীরে ধীরে একটি ‘প্রকৃত বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা’র সূচনা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ব্রিটেন ও ব্রাজিলসহ মোট ২১টি দেশের ২৫ হাজার ৯৪৯ জন মানুষের ওপর পরিচালিত জরিপ শেষে থিংক ট্যাঙ্কটি জানায়, ট্রাম্পের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের এক বছর পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ মনে করছেন—চীন এখন আরও শক্তিশালী অবস্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক যান (ইভি) ও আধুনিক শিল্পখাতে চীন বর্তমানে বিশ্ব নেতৃত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবও দ্রুত বাড়ছে।

সমীক্ষায় দেখা যায়, প্রায় সব অঞ্চলেই মানুষ ধারণা করছেন যে আগামী এক দশকে চীনের বৈশ্বিক প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ৮৩ শতাংশ, ব্রাজিলে ৭২ শতাংশ, রাশিয়ায় ৫৭ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ৫৪ শতাংশ এবং ব্রিটেনে ৫০ শতাংশ উত্তরদাতা এই মত প্রকাশ করেছেন।

তবে থিংক ট্যাঙ্কটি জানিয়েছে, ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার অধিকাংশ মানুষ এখনো চীনকে প্রতিদ্বন্দ্বী কিংবা শত্রু হিসেবেই দেখছেন। বিপরীতে, গত বছরের তুলনায় দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে চীনকে মিত্র হিসেবে দেখার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে ভারতে। নয়াদিল্লি ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে জটিল ও তিক্ত হলেও, বর্তমানে ভারতের প্রায় অর্ধেক মানুষ চীনকে হয় মিত্র, নয়তো একটি ‘অপরিহার্য অংশীদার’ হিসেবে বিবেচনা করছেন বলে জরিপে উঠে এসেছে।
সূত্র: এসসিএমপি।