সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা স্থগিতের তালিকায় বাংলাদেশসহ যেসব দেশ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৫৭:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৬০ Time View

বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্তত ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের মার্কিন ভিসা প্রদান সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নির্দেশনার ফলে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা নতুন করে কোনো ধরনের ভিসা পাবেন না এবং কার্যত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মূলত যেসব দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর দেশটির সরকারি সহায়তা, কল্যাণ ভাতা বা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েন—তাদের প্রবেশ সীমিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিশ্বের ৭৫টি দেশের সব কনস্যুলার অফিসে জরুরি নির্দেশনা পাঠিয়ে নতুন ভিসা আবেদন গ্রহণ ও অনুমোদন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট এই সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি ব্যাখ্যা করে জানান, বর্তমানে ভিসা প্রদান ও যাচাই-বাছাইয়ের পুরো প্রক্রিয়াটি নতুন করে পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এই পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত ওই ৭৫টি দেশের নাগরিকদের কোনো ধরনের ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাঁর ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন অভিবাসন নীতি চায়, যেখানে বিদেশি নাগরিকরা দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়াবেন না।”

তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সরকারি ত্রাণ, ওয়েলফেয়ার বা সামাজিক সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করার সম্ভাবনা রাখেন, তাদের প্রবেশ রোধ করাই বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। অভিবাসন ব্যবস্থার এই পুনর্মূল্যায়ন শেষ করে কল্যাণ ভাতা গ্রহণের প্রবণতা কমানো না গেলে, ভিসা স্থগিতাদেশ অনির্দিষ্টকাল বহাল থাকতে পারে। তবে ঠিক কতদিন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিতে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের নেপথ্যে গত ৪ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেদিন তিনি তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টে ১২০টি দেশের একটি তালিকা প্রকাশ করেন, যেখানে দেখানো হয়—কোন কোন দেশের অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সরকারি সহায়তা গ্রহণ করছেন। ওই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৯তম।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর প্রায় ৫৪.৮ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে সরকারি সহায়তা বা সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা গ্রহণ করে থাকে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল ও ভুটানের নাম থাকলেও ভারত ও শ্রীলঙ্কা এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে প্রকাশিত ৭৫টি দেশের পূর্ণাঙ্গ তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরান, ইরাক, মিশরসহ একাধিক রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশের নাম রয়েছে। এছাড়াও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, ব্রাজিল, কিউবা, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, সিরিয়া, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেনের মতো দেশগুলো।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান মার্কিন অভিবাসন আইনের আওতায় কনস্যুলার কর্মকর্তারা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব দেশের নাগরিকদের কোনো ধরনের ভিসা প্রদান করতে পারবেন না। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, পর্যটক, ব্যবসায়ী ও অভিবাসন প্রত্যাশী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত অভিবাসননীতি, মানবাধিকার এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ও বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: ফক্স নিউজ

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা স্থগিতের তালিকায় বাংলাদেশসহ যেসব দেশ

Update Time : ১১:৫৭:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্তত ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের মার্কিন ভিসা প্রদান সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নির্দেশনার ফলে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা নতুন করে কোনো ধরনের ভিসা পাবেন না এবং কার্যত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মূলত যেসব দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর দেশটির সরকারি সহায়তা, কল্যাণ ভাতা বা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েন—তাদের প্রবেশ সীমিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিশ্বের ৭৫টি দেশের সব কনস্যুলার অফিসে জরুরি নির্দেশনা পাঠিয়ে নতুন ভিসা আবেদন গ্রহণ ও অনুমোদন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট এই সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি ব্যাখ্যা করে জানান, বর্তমানে ভিসা প্রদান ও যাচাই-বাছাইয়ের পুরো প্রক্রিয়াটি নতুন করে পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এই পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত ওই ৭৫টি দেশের নাগরিকদের কোনো ধরনের ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাঁর ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন অভিবাসন নীতি চায়, যেখানে বিদেশি নাগরিকরা দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়াবেন না।”

তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সরকারি ত্রাণ, ওয়েলফেয়ার বা সামাজিক সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করার সম্ভাবনা রাখেন, তাদের প্রবেশ রোধ করাই বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। অভিবাসন ব্যবস্থার এই পুনর্মূল্যায়ন শেষ করে কল্যাণ ভাতা গ্রহণের প্রবণতা কমানো না গেলে, ভিসা স্থগিতাদেশ অনির্দিষ্টকাল বহাল থাকতে পারে। তবে ঠিক কতদিন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিতে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের নেপথ্যে গত ৪ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেদিন তিনি তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টে ১২০টি দেশের একটি তালিকা প্রকাশ করেন, যেখানে দেখানো হয়—কোন কোন দেশের অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সরকারি সহায়তা গ্রহণ করছেন। ওই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৯তম।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর প্রায় ৫৪.৮ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে সরকারি সহায়তা বা সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা গ্রহণ করে থাকে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল ও ভুটানের নাম থাকলেও ভারত ও শ্রীলঙ্কা এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে প্রকাশিত ৭৫টি দেশের পূর্ণাঙ্গ তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরান, ইরাক, মিশরসহ একাধিক রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশের নাম রয়েছে। এছাড়াও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, ব্রাজিল, কিউবা, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, সিরিয়া, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেনের মতো দেশগুলো।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান মার্কিন অভিবাসন আইনের আওতায় কনস্যুলার কর্মকর্তারা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব দেশের নাগরিকদের কোনো ধরনের ভিসা প্রদান করতে পারবেন না। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, পর্যটক, ব্যবসায়ী ও অভিবাসন প্রত্যাশী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত অভিবাসননীতি, মানবাধিকার এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ও বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: ফক্স নিউজ