সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে হামলা না করতে ট্রাম্পকে কড়া সতর্কবার্তা উপসাগরীয় মিত্রদের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:০১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৭৮ Time View

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সউদী আরব, কাতার ও ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলো স্পষ্ট ভাষায় ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলো হোয়াইট হাউসকে জানিয়ে দিয়েছে যে, ইরানে সামরিক হামলা কিংবা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ফেলবে। তাদের আশঙ্কা, এমন পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি মার্কিন অর্থনীতিতেও পড়বে।

সউদী আরবসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর মতে, ইরানে হামলা হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ হয়ে থাকে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়লে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ কিংবা চরমপন্থি গোষ্ঠীর উত্থান ঘটতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। সউদী কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক সংঘাতে অংশ নেবেন না এবং তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতিও দেবেন না।

উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতির মধ্যে পেন্টাগন কাতারের আল-উদাইদ বিমান ঘাঁটি থেকে কিছু মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে কাতারের ওই ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এ অবস্থায় ভারতসহ একাধিক দেশ তাদের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুতরতা আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইরানে হামলা না করতে ট্রাম্পকে কড়া সতর্কবার্তা উপসাগরীয় মিত্রদের

Update Time : ০২:০১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সউদী আরব, কাতার ও ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলো স্পষ্ট ভাষায় ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলো হোয়াইট হাউসকে জানিয়ে দিয়েছে যে, ইরানে সামরিক হামলা কিংবা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ফেলবে। তাদের আশঙ্কা, এমন পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি মার্কিন অর্থনীতিতেও পড়বে।

সউদী আরবসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর মতে, ইরানে হামলা হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ হয়ে থাকে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়লে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ কিংবা চরমপন্থি গোষ্ঠীর উত্থান ঘটতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। সউদী কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক সংঘাতে অংশ নেবেন না এবং তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতিও দেবেন না।

উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতির মধ্যে পেন্টাগন কাতারের আল-উদাইদ বিমান ঘাঁটি থেকে কিছু মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে কাতারের ওই ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এ অবস্থায় ভারতসহ একাধিক দেশ তাদের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুতরতা আরও স্পষ্ট করে তুলছে।