সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে রক্তপাতের মূল দায়ী ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু: লারিজানি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:২৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১২৮ Time View

 

ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতায় ব্যাপক প্রাণহানির দায় সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর উপর চাপিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি লারিজানি।

 

মঙ্গলবার এক্স (পূর্বের টুইটার) প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বক্তব্যে লারিজানি অভিযোগ করেন, “ইরানি জনগণের প্রধান হত্যাকারীর তালিকায় ইতিহাসে প্রথমে ট্রাম্প, দ্বিতীয় স্থানে নেতানিয়াহু থাকবে।” তার মতে, ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের উসকানি ও হস্তক্ষেপই দেশটিতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে।

 

লারিজানির এই বক্তব্য আসে এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত পোস্টের প্রতিক্রিয়ায়, যাতে তিনি ইরানি বিক্ষোভকারীদের সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করার এবং “হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের” তালিকা সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। ট্রাম্প লিখেছিলেন, “সাহায্য আসছে।”

 

ইরানের এই শীর্ষ উপদেষ্টা ট্রাম্পের এই বিবৃতিকে “নির্লজ্জ ও বিপজ্জনক” আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, বিদেশি এই হস্তক্ষেপই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মার্কিন নীতির ফলে পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হবে এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজের স্বার্থই শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

 

প্রসঙ্গত, ইরানের মানবাধিকার সংক্রান্ত সংবাদ সংস্থা (এইচআরএএনএ) এর তথ্যমতে, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ১,৮৪৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। তবে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

 

ইরান সরকার জোর দিয়ে বলছে, তারা দেশের অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ সক্ষম এবং কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সরাসরি সমর্থন ও ইসরাইলের গোপন ভূমিকার অভিযোগ তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

লারিজানি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, ইরান এই সঙ্কটকে কেবল একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় না দেখে বরং একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হিসেবেই মূল্যায়ন করছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তেহরানের প্রতিরোধ কৌশলের ওপর।

সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইরানে রক্তপাতের মূল দায়ী ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু: লারিজানি

Update Time : ১১:২৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

 

ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতায় ব্যাপক প্রাণহানির দায় সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর উপর চাপিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি লারিজানি।

 

মঙ্গলবার এক্স (পূর্বের টুইটার) প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বক্তব্যে লারিজানি অভিযোগ করেন, “ইরানি জনগণের প্রধান হত্যাকারীর তালিকায় ইতিহাসে প্রথমে ট্রাম্প, দ্বিতীয় স্থানে নেতানিয়াহু থাকবে।” তার মতে, ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের উসকানি ও হস্তক্ষেপই দেশটিতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে।

 

লারিজানির এই বক্তব্য আসে এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত পোস্টের প্রতিক্রিয়ায়, যাতে তিনি ইরানি বিক্ষোভকারীদের সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করার এবং “হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের” তালিকা সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। ট্রাম্প লিখেছিলেন, “সাহায্য আসছে।”

 

ইরানের এই শীর্ষ উপদেষ্টা ট্রাম্পের এই বিবৃতিকে “নির্লজ্জ ও বিপজ্জনক” আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, বিদেশি এই হস্তক্ষেপই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মার্কিন নীতির ফলে পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হবে এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজের স্বার্থই শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

 

প্রসঙ্গত, ইরানের মানবাধিকার সংক্রান্ত সংবাদ সংস্থা (এইচআরএএনএ) এর তথ্যমতে, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ১,৮৪৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। তবে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

 

ইরান সরকার জোর দিয়ে বলছে, তারা দেশের অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ সক্ষম এবং কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সরাসরি সমর্থন ও ইসরাইলের গোপন ভূমিকার অভিযোগ তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

লারিজানি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, ইরান এই সঙ্কটকে কেবল একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় না দেখে বরং একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হিসেবেই মূল্যায়ন করছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তেহরানের প্রতিরোধ কৌশলের ওপর।

সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস