ইরানের পরিস্থিতি ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’, সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত খুঁজছেন ট্রাম্প: আরাঘচি
- Update Time : ০২:৫৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৩০ Time View

ইরানজুড়ে চলমান নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও অস্থিরতার পর দেশের পরিস্থিতি এখন ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সহিংসতা সত্ত্বেও বর্তমানে ইরানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব কথা বলেন আরাঘচি। তিনি জানান, গত সপ্তাহান্তে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতার মাত্রা বাড়লেও এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছে।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনকে পরিকল্পিতভাবে সহিংস ও রক্তাক্ত রূপ দেওয়া হয়েছে, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের একটি ‘অজুহাত’ পান।
বৈঠকে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করে আরাঘচি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তবে সংলাপের পথও খোলা রয়েছে।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সারা দেশে ধাপে ধাপে ইন্টারনেট পরিষেবা পুনরায় চালু করার কাজ চলছে। বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দূতাবাস ও সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোতে দ্রুত ইন্টারনেট সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলেও কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার দেশজুড়ে কঠোর অবস্থান নেয় এবং কয়েক দিন ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। সরাসরি নাম উল্লেখ না করে তিনি ট্রাম্পকে ইতিহাসের কুখ্যাত ও অহংকারী স্বৈরশাসকদের সঙ্গে তুলনা করেন।
খামেনি তার পোস্টে লেখেন, ‘যিনি দম্ভের সঙ্গে বসে সারা বিশ্বকে বিচার করছেন, তিনি জেনে রাখুন—ফেরাউন, নমরুদ ও রেজা শাহর মতো অহংকারী শাসকেরা ক্ষমতার চূড়ায় থাকতেই পতনের মুখে পড়েছিল। তার পতনও অনিবার্য।’ বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ‘গ্রেট ইরান’ গড়ার আহ্বানের বিপরীতে তেহরানের অনমনীয় অবস্থানেরই প্রতিফলন এই মন্তব্য।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে আরাঘচির বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেহরান এখন আন্তর্জাতিক মহলের কাছে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।
একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক হুমকির প্রেক্ষাপটে ইরান সরকার প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার রাখার পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার পথও খোলা রাখার কৌশল নিয়েছে। বর্তমান সংকটে তেহরানের রাজপথ আপাত শান্ত থাকলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ নতুন মোড় নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আল জাজিরা
















