সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘ মিশন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:২৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৪১ Time View

 

জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তিরক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও গণতন্ত্র প্রসারে কাজ করা ৬৬টি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘ মিশন থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের আনুষ্ঠিক ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তকে তার দ্বিতীয় মেয়াদের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সবচেয়ে কঠোর বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা এক প্রেসিডেনশিয়াল মেমোরেন্ডামে ট্রাম্প জানান, পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ পুরোপুরি বন্ধ করা হবে এবং সব ধরনের অর্থায়ন বাতিল করা হবে।

হোয়াইট হাউস সূত্রে প্রকাশিত তালিকায় জাতিসংঘের বাইরের ৩৫টি আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)। জলবায়ু বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এই বৈজ্ঞানিক সংস্থাকেও প্রত্যাহারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক জলবায়ু গবেষণার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এছাড়া জাতিসংঘের অধীনে থাকা ৩১টি সংস্থা থেকেও যুক্তরাষ্ট্র সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকটোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স, মা ও শিশু স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা ইউএনএফপিএ এবং যুদ্ধকবলিত শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করা জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির কার্যালয়। এসব প্রতিষ্ঠান বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

সংস্থাগুলো থেকে সরে দাঁড়ালেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব বিস্তারে কোনো ছাড় দিচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন। জাহাজ চলাচলে ব্যবহৃত জ্বালানির ওপর কর আরোপের বিরোধিতা করে সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি, গাজায় গণহত্যা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশকারী জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ—এসব পদক্ষেপ তারই উদাহরণ।

এদিকে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কাজ করা সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-তে অর্থায়ন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও বহাল রেখেছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র একাধিক আন্তর্জাতিক উদ্যোগ আটকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন একের পর এক আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করছে। এর মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত সবচেয়ে বেশি আলোচিত। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে ডব্লিউএইচও থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, যা বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, যক্ষ্মা ও কোভিড-১৯-এর মতো সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মোট তহবিলের প্রায় ১৮ শতাংশই আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। জো বাইডেনের আমলে যুক্তরাষ্ট্র এসব সংস্থায় পুনরায় যোগ দিলেও ট্রাম্প তার পুরনো নীতিতে ফিরে গিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘ মিশন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

Update Time : ১১:২৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

 

জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তিরক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও গণতন্ত্র প্রসারে কাজ করা ৬৬টি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘ মিশন থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের আনুষ্ঠিক ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তকে তার দ্বিতীয় মেয়াদের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সবচেয়ে কঠোর বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা এক প্রেসিডেনশিয়াল মেমোরেন্ডামে ট্রাম্প জানান, পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ পুরোপুরি বন্ধ করা হবে এবং সব ধরনের অর্থায়ন বাতিল করা হবে।

হোয়াইট হাউস সূত্রে প্রকাশিত তালিকায় জাতিসংঘের বাইরের ৩৫টি আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)। জলবায়ু বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এই বৈজ্ঞানিক সংস্থাকেও প্রত্যাহারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক জলবায়ু গবেষণার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এছাড়া জাতিসংঘের অধীনে থাকা ৩১টি সংস্থা থেকেও যুক্তরাষ্ট্র সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকটোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স, মা ও শিশু স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা ইউএনএফপিএ এবং যুদ্ধকবলিত শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করা জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির কার্যালয়। এসব প্রতিষ্ঠান বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

সংস্থাগুলো থেকে সরে দাঁড়ালেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব বিস্তারে কোনো ছাড় দিচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন। জাহাজ চলাচলে ব্যবহৃত জ্বালানির ওপর কর আরোপের বিরোধিতা করে সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি, গাজায় গণহত্যা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশকারী জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ—এসব পদক্ষেপ তারই উদাহরণ।

এদিকে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কাজ করা সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-তে অর্থায়ন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও বহাল রেখেছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র একাধিক আন্তর্জাতিক উদ্যোগ আটকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন একের পর এক আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করছে। এর মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত সবচেয়ে বেশি আলোচিত। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে ডব্লিউএইচও থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, যা বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, যক্ষ্মা ও কোভিড-১৯-এর মতো সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মোট তহবিলের প্রায় ১৮ শতাংশই আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। জো বাইডেনের আমলে যুক্তরাষ্ট্র এসব সংস্থায় পুনরায় যোগ দিলেও ট্রাম্প তার পুরনো নীতিতে ফিরে গিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছেন।

সূত্র: আল জাজিরা