সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রয়োজনে খামেনিকে হত্যাও করতে পারেন ট্রাম্প

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৩২:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৫৮ Time View
ছবি: দ্য জেরুজালেম পোস্ট

 

ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার মতো চরম সিদ্ধান্তও নিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রভাবশালী মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রাহাম বলেন, নিজ দেশের জনগণের বিরুদ্ধে সহিংস দমন-পীড়নে জড়ালে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও কঠোরতম পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।

গ্রাহামের এই মন্তব্য এমন এক সময় সামনে এলো, যখন তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের জেরে ইরানজুড়ে রক্তক্ষয়ী সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়ে চলেছে।

সাক্ষাৎকারে লিন্ডসে গ্রাহাম ইরানি শাসকদের উদ্দেশে বলেন, উন্নত জীবন ও মৌলিক অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নামা সাধারণ জনগণের ওপর যদি রাষ্ট্রীয় সহিংসতা চালানো হয়, তাহলে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি আঘাত হানতে পারেন। তার ভাষায়, “আয়াতুল্লাহদের এটা বুঝতে হবে—নিজেদের জনগণকে হত্যা করলে তার ভয়াবহ পরিণতি হবে।”

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানে চলমান এই আন্দোলন মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে একটি বড় রাজনৈতিক মোড় তৈরি করতে পারে। এর আগেও ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শক্ত প্রতিক্রিয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে তেহরান এসব মন্তব্যকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে ইরানের বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেই ঘোষণা দিয়েছেন, যারা রাস্তায় দাঙ্গা সৃষ্টি করছে বা এতে সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা বাহিনীকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং দাঙ্গাবাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই ক্ষমতাচ্যুত শাহের পুত্র রেজা পাহলভি এক ভিডিও বার্তায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং আন্দোলন আরও জোরদার করার ডাক দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও মার্কিন সিনেটরের এমন বিতর্কিত মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ককে আরও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এরই মধ্যে ইরানের সেনাপ্রধান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আক্রমণকারীদের হাত তারা কেটে ফেলবেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে খামেনির মতো একজন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার হুমকি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিরল এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র: ফক্স নিউজ

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রয়োজনে খামেনিকে হত্যাও করতে পারেন ট্রাম্প

Update Time : ১১:৩২:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
ছবি: দ্য জেরুজালেম পোস্ট

 

ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার মতো চরম সিদ্ধান্তও নিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রভাবশালী মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রাহাম বলেন, নিজ দেশের জনগণের বিরুদ্ধে সহিংস দমন-পীড়নে জড়ালে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও কঠোরতম পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।

গ্রাহামের এই মন্তব্য এমন এক সময় সামনে এলো, যখন তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের জেরে ইরানজুড়ে রক্তক্ষয়ী সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়ে চলেছে।

সাক্ষাৎকারে লিন্ডসে গ্রাহাম ইরানি শাসকদের উদ্দেশে বলেন, উন্নত জীবন ও মৌলিক অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নামা সাধারণ জনগণের ওপর যদি রাষ্ট্রীয় সহিংসতা চালানো হয়, তাহলে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি আঘাত হানতে পারেন। তার ভাষায়, “আয়াতুল্লাহদের এটা বুঝতে হবে—নিজেদের জনগণকে হত্যা করলে তার ভয়াবহ পরিণতি হবে।”

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানে চলমান এই আন্দোলন মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে একটি বড় রাজনৈতিক মোড় তৈরি করতে পারে। এর আগেও ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শক্ত প্রতিক্রিয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে তেহরান এসব মন্তব্যকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে ইরানের বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেই ঘোষণা দিয়েছেন, যারা রাস্তায় দাঙ্গা সৃষ্টি করছে বা এতে সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা বাহিনীকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং দাঙ্গাবাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই ক্ষমতাচ্যুত শাহের পুত্র রেজা পাহলভি এক ভিডিও বার্তায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং আন্দোলন আরও জোরদার করার ডাক দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও মার্কিন সিনেটরের এমন বিতর্কিত মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ককে আরও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এরই মধ্যে ইরানের সেনাপ্রধান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আক্রমণকারীদের হাত তারা কেটে ফেলবেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে খামেনির মতো একজন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার হুমকি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিরল এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র: ফক্স নিউজ