ইরানে আক্রমণকারীদের হাত আমরা কেটে ফেলব: সেনাপ্রধান আমির হাতামি
- Update Time : ০৭:১১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৫৪ Time View

ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুদের হুমকি ও আগ্রাসী বক্তব্য আরও তীব্র হলে তা সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দেন, “ইরানে আক্রমণকারীদের হাত আমরা কেটে ফেলব।”
বুধবার (৭ জানুয়ারি) ইরানের আর্মি কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এই কঠোর বার্তা দেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামরিক হুমকির প্রেক্ষাপটেই এই বক্তব্য দেন ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা।
আমির হাতামি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষের বক্তব্যের তীব্রতাকে তেহরান সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখছে। এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য ও আচরণ অব্যাহত থাকলে ইরান নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপের সুদূরপ্রসারী ও ভয়াবহ পরিণতি হবে। দেশের স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা রক্ষায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরানের সামরিক বাহিনী আরও সুসংগঠিত ও প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। শত্রুপক্ষ যদি ভুল হিসাব করে, তাহলে তারা আরও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হবে।
গত বছরের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের প্রসঙ্গও টানেন সেনাপ্রধান। তিনি দাবি করেন, ওই সময় টানা ১২ দিনের সংঘর্ষে অন্তত এক হাজার ৬৪ জন নিহত হন এবং সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে ২৪ জুন ইরানের সফল পাল্টা অভিযানের মাধ্যমে সেই আগ্রাসন থামানো সম্ভব হয় বলে জানান তিনি।
দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন আমির হাতামি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানজুড়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
তিনি বলেন, “প্রতিবাদ যেকোনো দেশেই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু তা দ্রুত সহিংস দাঙ্গায় রূপ নেওয়া ইরানি সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।” এ ধরনের অস্থিতিশীলতা শত্রুদের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ বলেও দাবি করেন ইরানের সেনাপ্রধান।
















