পবিত্র কোরআন হাতে মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন মামদানি
- Update Time : ১২:১৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৪৭ Time View

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম নগরী নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) নতুন বছরের প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানিকভাবে নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন জোহরান মামদানি। ম্যানহাটনের একটি পরিত্যক্ত ঐতিহাসিক সাবওয়ে স্টেশনে পবিত্র কোরআন হাতে নিয়ে তিনি এই শপথ নেন, যা শহরটির বহুত্ববাদী ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
এই শপথের মধ্য দিয়ে ৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি নিউ ইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র এবং সাম্প্রতিক প্রজন্মের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। শপথ অনুষ্ঠানে তিনি পবিত্র কোরআনের ওপর হাত রেখে দাপ্তরিক অঙ্গীকার করেন। নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস তাকে শপথবাক্য পাঠ করান, যা শহরের রাজনৈতিক ও সামাজিক বৈচিত্র্যের প্রতীক হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
শপথ গ্রহণের স্থান হিসেবে মামদানি বেছে নেন ১৯৪৫ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক ওল্ড সিটি হল সাবওয়ে স্টেশন। এর অনন্য স্থাপত্য ও নান্দনিক ছাদের জন্য স্থানটি সুপরিচিত। মামদানির ট্রানজিশন টিমের ভাষ্য অনুযায়ী, এই স্টেশনটি নিউ ইয়র্কের শ্রমজীবী মানুষের ইতিহাস ও অবদানের প্রতীক—যারা প্রতিদিন এই শহরকে সচল রাখেন।
মধ্যরাতের এই ঘরোয়া শপথ অনুষ্ঠানের পর দুপুর ১টায় সিটি হলের সিঁড়িতে একটি বৃহৎ জনসমাবেশে তিনি পুনরায় শপথ নেবেন। সেখানে তার রাজনৈতিক আদর্শ ও মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স শপথবাক্য পাঠ করাবেন এবং কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। এরপর ব্রডওয়ের ‘ক্যানিয়ন অব হিরোস’-এ আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য গণসংবর্ধনা ও ব্লক পার্টির।
উগান্ডার কাম্পালায় জন্মগ্রহণ করা জোহরান মামদানি খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানির সন্তান। ১৯৯৯ সালে মাত্র সাত বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে নিউ ইয়র্কে স্থায়ী হন এবং ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন।
নিজেকে একজন ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মামদানি তার নির্বাচনী প্রচারণায় জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তার ঘোষিত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বিনা মূল্যে বাস পরিষেবা চালু, প্রায় ১০ লাখ ভাড়াটিয়া পরিবারের জন্য বাড়িভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত রাখা, সবার জন্য চাইল্ডকেয়ার নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষামূলকভাবে নগর-পরিচালিত গ্রোসারি স্টোর চালু করা।
মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মামদানির সামনে যেমন ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে, তেমনি রয়েছে বড় ধরনের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জও। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এই শহরের আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, তুষারপাত নিয়ন্ত্রণ এবং সাবওয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে তাকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।
তার প্রগতিশীল নীতিগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকে শুধু নিউ ইয়র্কবাসী নয়—পুরো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন গভীর দৃষ্টি রাখছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও শহরের সার্বিক উন্নয়নে তিনি কতটা সমন্বয় গড়ে তুলতে পারেন, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
সূত্র: আল জাজিরা
















