ওসমান হাদির হত্যাকারীরা ভারতে প্রবেশ করেনি, দাবি মেঘালয় বিএসএফ ও পুলিশের
- Update Time : ০৬:৪৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৫৭ Time View

ইনকিলাব মঞ্চ নেতা শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই প্রধান সন্দেহভাজন বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে গেছে—এমন দাবি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তবে ভারতের মেঘালয় পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) হিন্দুস্তান টাইমস জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এ ধরনের তথ্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে সন্দেহভাজনরা আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে মেঘালয়ে প্রবেশ করেছে।
বিএসএফের মেঘালয় অঞ্চলের মহাপরিদর্শক ওপি উপাধ্যায় বলেন, হালুয়াঘাট সেক্টর দিয়ে ওই ব্যক্তিরা সীমান্ত অতিক্রম করেছে—এমন কোনো তথ্য বা প্রমাণ বিএসএফের কাছে নেই। এই ধরনের কোনো ঘটনা শনাক্ত বা রিপোর্ট করা হয়নি বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, এসব দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।
মেঘালয় পুলিশ সদর দপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগও হয়নি। প্রতিবেদনে উল্লেখিত নামের কোনো অভিযুক্তকে গারো পাহাড় এলাকায় পাওয়া যায়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকার পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলেও, বর্তমানে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে সন্দেহভাজনরা মেঘালয় রাজ্যে অবস্থান করছে।
এর আগে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ফয়সাল করিমসহ আরও একজন ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ছয় জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার চার্জশিট আগামী ৭–৮ দিনের মধ্যে দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে এই হামলার ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলে এসে ফয়সাল করিম ও তার অজ্ঞাত সহযোগী চলন্ত অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। পরে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ২০ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের নির্দেশ দেন।
















