সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : ০৭:৪৩:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৫৫ Time View

ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ঐতিহাসিক জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস–এর নাম পরিবর্তন করে ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার’ রাখার সিদ্ধান্তকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বিষয়টিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।

নাম পরিবর্তনের খবর প্রকাশের পরই কেনেডি পরিবারের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। পরিবারের সদস্য জো কেনেডি বলেন, কেনেডি সেন্টারের নাম ফেডারেল আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই নাম পরিবর্তনের কোনো আইনি সুযোগ নেই। তার মতে, এটি শুধুই একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং জাতীয় ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি বিষয়।

এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেন ডেমোক্র্যাট পার্টির আইনপ্রণেতা জয়েস বিটি। তিনি কেনেডি সেন্টারের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের একজন সদস্য এবং মার্কিন আইনের অধীনে মনোনীত ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের একজন। দায়ের করা মামলায় বিটি দাবি করেন, কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগটি সম্পূর্ণভাবে অবৈধ, কারণ এই ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত বোর্ড সভায় জয়েস বিটি ফোনে যুক্ত ছিলেন। তিনি যখন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলতে চান, তখন তাকে থামিয়ে দেওয়া হয় এবং কার্যত তার মতামত উপেক্ষা করা হয়। বিষয়টিকে তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গত সপ্তাহে কেনেডি সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদ ভোটের মাধ্যমে এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে সমালোচকরা বলছেন, বোর্ডে বর্তমানে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের আধিপত্য থাকায় সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নয়। কেনেডি সেন্টারের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বোর্ড অব ট্রাস্টিজে বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত ৩৪ জন সদস্য রয়েছেন, পাশাপাশি আইনের মাধ্যমে মনোনীত আরও ২৩ জন সদস্য আছেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ট্রাম্প কেনেডি সেন্টারের একাধিক বোর্ড সদস্যকে অপসারণ করে নিজের অনুগত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে বোর্ড তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করে এবং তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা রিচার্ড

গ্রেনেল বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। এই ঘটনাগুলো একটি জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা শুধু একটি নাম পরিবর্তনের বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা, ফেডারেল আইনের প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার সীমা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। মামলাটি এখন আদালতের বিচারাধীন থাকায় দেশজুড়ে এ নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

 বিবিসি, রয়টার্স

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা

Update Time : ০৭:৪৩:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ঐতিহাসিক জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস–এর নাম পরিবর্তন করে ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার’ রাখার সিদ্ধান্তকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বিষয়টিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।

নাম পরিবর্তনের খবর প্রকাশের পরই কেনেডি পরিবারের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। পরিবারের সদস্য জো কেনেডি বলেন, কেনেডি সেন্টারের নাম ফেডারেল আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই নাম পরিবর্তনের কোনো আইনি সুযোগ নেই। তার মতে, এটি শুধুই একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং জাতীয় ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি বিষয়।

এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেন ডেমোক্র্যাট পার্টির আইনপ্রণেতা জয়েস বিটি। তিনি কেনেডি সেন্টারের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের একজন সদস্য এবং মার্কিন আইনের অধীনে মনোনীত ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের একজন। দায়ের করা মামলায় বিটি দাবি করেন, কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগটি সম্পূর্ণভাবে অবৈধ, কারণ এই ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত বোর্ড সভায় জয়েস বিটি ফোনে যুক্ত ছিলেন। তিনি যখন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলতে চান, তখন তাকে থামিয়ে দেওয়া হয় এবং কার্যত তার মতামত উপেক্ষা করা হয়। বিষয়টিকে তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গত সপ্তাহে কেনেডি সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদ ভোটের মাধ্যমে এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে সমালোচকরা বলছেন, বোর্ডে বর্তমানে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের আধিপত্য থাকায় সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নয়। কেনেডি সেন্টারের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বোর্ড অব ট্রাস্টিজে বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত ৩৪ জন সদস্য রয়েছেন, পাশাপাশি আইনের মাধ্যমে মনোনীত আরও ২৩ জন সদস্য আছেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ট্রাম্প কেনেডি সেন্টারের একাধিক বোর্ড সদস্যকে অপসারণ করে নিজের অনুগত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে বোর্ড তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করে এবং তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা রিচার্ড

গ্রেনেল বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। এই ঘটনাগুলো একটি জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা শুধু একটি নাম পরিবর্তনের বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা, ফেডারেল আইনের প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার সীমা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। মামলাটি এখন আদালতের বিচারাধীন থাকায় দেশজুড়ে এ নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

 বিবিসি, রয়টার্স