পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল মুনিরকে ‘অত্যন্ত সম্মানিত’ আখ্যা ট্রাম্পের, যুদ্ধ ঠেকানোর দাবি পুনর্ব্যক্ত
- Update Time : ১১:৫৬:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৪৬ Time View

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরকে ‘অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি আবারও দাবি করেছেন, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সম্ভাব্য একটি ভয়াবহ যুদ্ধ—এমনকি পারমাণবিক সংঘাত—ঠেকাতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২২ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও নৌবাহিনীর সেক্রেটারি জন ফেলানের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমরা পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সম্ভাব্য একটি পারমাণবিক যুদ্ধ থামিয়েছি।”
ট্রাম্পের দাবি, পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তাকে জানিয়েছেন—তার মধ্যস্থতার কারণেই একটি বড় ধরনের যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং এতে প্রায় এক কোটি মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান-ভারত উত্তেজনার সময় আটটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল এবং পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নিতে যাচ্ছিল। “যুদ্ধটি আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারত,” মন্তব্য করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এ পর্যন্ত তিনি বিশ্বে মোট আটটি বড় যুদ্ধ থামাতে সহায়তা করেছেন।
ফ্লোরিডায় আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে নতুন প্রজন্মের ‘ট্রাম্প ক্লাস’ যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা আরও সম্প্রসারিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগেও একাধিকবার ট্রাম্প পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, দেশ দু’টি স্বাধীনতার পর থেকে তিনটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়েছে এবং ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ বজায় রয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনা দেখা দেয়। ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের পেহালগাম এলাকায় পর্যটকদের ওপর একটি সন্ত্রাসী হামলার পর এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হামলাটির পেছনে পাকিস্তানের মদদ ছিল। তবে ইসলামাবাদ এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে।
ওই হামলায় ২৬ জন পুরুষ নিহত হন, যা ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার পর ভারতে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এর পরপরই ভারত টানা তিন দিন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক হামলা চালায়, যাতে বেশ কয়েকজন নিরীহ বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
পরিস্থিতির জবাবে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’ পরিচালনা করে এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় বলে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এতে করে উপমহাদেশে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে রূপ নেয়নি।
















