‘ভারতকে এমন শিক্ষা দিয়েছি, যা তারা কখনো ভুলবে না’: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের হুঁশিয়ারি
- Update Time : ০৪:৫৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৭২ Time View

চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে সংঘটিত সংক্ষিপ্ত যুদ্ধে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। দুই চিরশত্রু দেশের নেতারা ও শীর্ষ কর্মকর্তারা একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন, যার ফলে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতি উন্নতির পরিবর্তে আরও তিক্ত হয়ে উঠেছে।
বুধবার খাইবার পাখতুনখাওয়ার হারিপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান এই সংঘাতে এমন এক শিক্ষা দিয়েছে যা ভারত “কখনোই ভুলতে পারবে না।”
শাহবাজ শরিফ তার বক্তব্যে এই সংঘাতকে ‘সত্যের যুদ্ধ’ বা ‘মার্কা-ই-হক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী জাতির দোয়া ও অবিচল সমর্থনে এই বিজয় অর্জন করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দিল্লি থেকে মুম্বাই পর্যন্ত পুরো ভারতই এই পরাজয়ের লজ্জা মনে রাখবে। এছাড়া তিনি খাইবার পাখতুনখাওয়াকে বীরদের ভূমি হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং সেখানকার জনগণের ত্যাগ ও অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তাঁর মতে, এই ত্যাগের ফলে দেশ শৃঙ্খলা ও শান্তির পথে ফিরে এসেছে।
শাহবাজ শরিফ পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি কোনো অলৌকিক ঘটনার কারণে নয়, বরং কঠোর পরিশ্রম ও পরিকল্পনার মাধ্যমে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। বর্তমানে অর্থনীতি সংকট কাটিয়ে স্থিতিশীলতার পথে রয়েছে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পাকিস্তানের চারটি প্রদেশ যখন সম্মিলিতভাবে উন্নয়ন করবে, তখনই প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী দেশ গঠন সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে এক সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার সূত্রপাত করে। ভারত এই হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করলেও পাকিস্তান তা প্রত্যাখ্যান করে। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করা, পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিল, সীমান্ত বন্ধ এবং দূতাবাস থেকে কর্মী কমানোর মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এই সবকিছু দুই দেশের সম্পর্ককে শীতলকায় খাদের কিনারে পৌঁছে দিয়েছে।
শাহবাজ শরিফের এই মন্তব্য ও কঠোর অবস্থান দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের নতুনভাবে উত্তপ্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
















