বিএনপি কি আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে?
- Update Time : ০৯:৪০:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৩১৩ Time View

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলীয় আচরণ ও ভাষার পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয়। বিশেষ করে ক্ষমতায় থাকা বা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা দলগুলোর রাজনৈতিক কৌশল, বক্তব্য ও প্রতিপক্ষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি প্রায়ই এক ধরনের ছকে বাঁধা হয়ে পড়ে। আজ প্রশ্ন উঠছে—বিএনপি কি ধীরে ধীরে সেই পথেই হাঁটছে, যে পথে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ হেঁটেছে?
আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কটাক্ষ করা, অবজ্ঞাসূচক ভাষা ব্যবহার, নেতিবাচক প্রচারণা এবং বিভাজনমূলক রাজনীতির অভিযোগে সমালোচিত হয়েছে। ভিন্নমতকে দমন করা, অন্য দল ও মতকে ‘শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করা, রাজনৈতিক ‘এমবি’ বা মাইন্ডসেট তৈরি করে জনমতকে একপেশে করার কৌশলও তারা ব্যবহার করেছে—এমন অভিযোগ বহুবার উঠেছে। এসব কৌশল রাজনীতিকে যুক্তির জায়গা থেকে সরিয়ে আবেগ, বিদ্বেষ ও প্রতিশোধের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির বক্তব্য ও রাজনৈতিক আচরণে অনেকেই সেই একই প্রবণতার ছায়া দেখতে পাচ্ছেন। রাজনৈতিক ভাষা ক্রমেই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে, প্রতিপক্ষকে হেয় করা, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও ব্যক্তিগত আক্রমণ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে জনসভা—সবখানেই এক ধরনের ‘আমরা বনাম তারা’ মানসিকতা দৃশ্যমান। এতে করে রাজনীতির গুণগত মান বাড়ছে না; বরং সংকুচিত হচ্ছে মতপ্রকাশের পরিসর।
রাজনীতি যদি কেবল প্রতিপক্ষকে দমন করার প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়, তবে গণতন্ত্র দুর্বল হয়। ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক—যে দলই একই কৌশল অবলম্বন করুক না কেন, শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্র ও সমাজ। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নীতিনির্ভর বিতর্ক, ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
দেশকে স্থিতিশীল ও এগিয়ে নিতে হলে পারস্পরিক sympathy ও respectable আচরণ অপরিহার্য। মতপার্থক্য থাকবেই—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু সেই মতপার্থক্য যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বুঝতে হবে, প্রতিপক্ষকে সম্মান না করলে শেষ পর্যন্ত নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
আজ বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রয়োজন আত্মসমালোচনা। আওয়ামী লীগ হোক বা বিএনপি—সব দলকেই প্রশ্ন করতে হবে, আমরা কি সত্যিই একটি সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলছি? নাকি পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি করছি? এই প্রশ্নের সৎ উত্তরই নির্ধারণ করবে, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে।















দুই দলের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে দৃশমান কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হচ্ছে না। মদ
দুই দলের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে দৃশমান কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হচ্ছে না। মদ