সময়: রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী ব্যাংকের পুনর্জাগরণের আশায়: অধ্যাপক আবু নাসের মুহাম্মাদ আবদুজ জাহের হতে পারেন আস্থার প্রতীক

বিল্লাল হোসেন
  • Update Time : ১২:০৮:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • / ১৩৯ Time View

 

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। একসময় দেশের সবচেয়ে লাভজনক, সুশাসিত এবং আমানতকারীদের আস্থাভাজন ব্যাংক হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা চ্যালেঞ্জ, বিতর্ক এবং আস্থার সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে।

এমন এক প্রেক্ষাপটে জনাব অধ্যাপক আবু নাসের মুহাম্মাদ আবদুজ জাহেরকে ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার খবর ব্যাংকটির লাখো গ্রাহক, আমানতকারী এবং শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। অনেকের বিশ্বাস, তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, সততা, দক্ষতা এবং ইসলামী ব্যাংকিং দর্শনের প্রতি গভীর অঙ্গীকার ব্যাংকটিকে আবারও তার ঐতিহ্যবাহী অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে।

অধ্যাপক আবু নাসের মুহাম্মাদ আবদুজ জাহের বাংলাদেশের ইসলামী অর্থনীতি, ব্যাংকিং এবং সামাজিক উন্নয়ন খাতের একটি সুপরিচিত নাম। ১৯৪৮ সালে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণকারী এই শিক্ষাবিদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষকতা পেশার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে তিনি সৌদি আরবের দূতাবাসে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

ব্যবসা ও শিল্পখাতেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি ইসলামী ব্যাংকিং, শিল্পায়ন, শিক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত বহু প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে থেকেছেন।

ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও নতুন নয়। অতীতে তিনি ব্যাংকটির পরিচালক, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এবং পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে ব্যাংকটির সাংগঠনিক কাঠামো, কার্যক্রম, সংস্কৃতি এবং মূল আদর্শ সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা রয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের আস্থা। যখন গ্রাহকরা বিশ্বাস করেন যে তাদের আমানত নিরাপদ, তখনই একটি ব্যাংক প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। গত কয়েক বছরে যে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করতে প্রয়োজন দক্ষ, সৎ, অভিজ্ঞ এবং গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব। অধ্যাপক জাহেরের নাম আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ হলো তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং প্রতিষ্ঠান গঠনের সফল ইতিহাস।

তাঁর জীবনের আরেকটি উজ্জ্বল দিক হলো সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড। তিনি শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অসংখ্য দরিদ্র শিক্ষার্থীকে শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছেন, দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে সহায়তা করেছেন, আবাসন সুবিধা প্রদান করেছেন এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিভিন্ন হাসপাতাল ও কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও তিনি সুপরিচিত।

বাংলাদেশে কর্পোরেট নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এমন ব্যক্তিত্ব বিরল, যিনি একইসঙ্গে শিক্ষা, সমাজসেবা, শিল্প, ব্যাংকিং এবং মানবিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমানভাবে অবদান রেখেছেন। ফলে অনেকেই মনে করেন, ইসলামী ব্যাংকের মতো একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে তাঁর প্রত্যাবর্তন শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং একটি নৈতিক ও আদর্শিক পুনর্জাগরণের সূচনা হতে পারে।

তবে বাস্তবতা হলো, একটি বৃহৎ ব্যাংককে পুনরুদ্ধার করা কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী পরিচালনা পর্ষদ, পেশাদার ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সহায়তা। কিন্তু একজন দূরদর্শী ও গ্রহণযোগ্য নেতা এই পরিবর্তনের সূচনা করতে পারেন এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নতুন কর্মস্পৃহা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেন।

যদি অধ্যাপক আবু নাসের মুহাম্মাদ আবদুজ জাহেরকে ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে ব্যাংকটির গ্রাহক, বিনিয়োগকারী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশা হবে—তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা, সততা এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আবারও দেশের ব্যাংকিং খাতের শীর্ষস্থানে নিয়ে যাবেন। ইসলামী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং নীতি এবং গ্রাহকসেবার উৎকর্ষতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবেন—এমনটাই আশা করছেন অনেকেই।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত আজ আস্থা, স্বচ্ছতা ও সুশাসনের নতুন দৃষ্টান্ত খুঁজছে। সেই প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক আবু নাসের মুহাম্মাদ আবদুজ জাহেরের মতো অভিজ্ঞ, শিক্ষিত এবং সমাজসেবায় নিবেদিত একজন ব্যক্তির নেতৃত্ব নিঃসন্দেহে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

One thought on “ইসলামী ব্যাংকের পুনর্জাগরণের আশায়: অধ্যাপক আবু নাসের মুহাম্মাদ আবদুজ জাহের হতে পারেন আস্থার প্রতীক

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিল্লাল হোসেন

বিল্লাল হোসেন, একজন প্রজ্ঞাবান পেশাজীবী, যিনি গণিতের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি সমৃদ্ধ ও বহুমুখী ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তার আর্থিক খাতে যাত্রা তাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় নিয়ে গেছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-রাজি ব্যাংকিং Inc. এবং ব্যাংক-আল-বিলাদে বিদেশী সম্পর্ক ও করেসপন্ডেন্ট মেইন্টেনেন্স অফিসার হিসেবে। প্রথাগত অর্থনীতির গণ্ডির বাইরে, বিল্লাল একজন প্রখ্যাত লেখক ও বিশ্লেষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে মননশীল কলাম ও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। তার দক্ষতা বিস্তৃত বিষয় জুড়ে রয়েছে, যেমন অর্থনীতির জটিলতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট, রেমিটেন্স, রিজার্ভ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত দিক। বিল্লাল তার লেখায় একটি অনন্য বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন, যা ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে অর্জিত বাস্তব জ্ঞানকে একত্রিত করে একাডেমিক কঠোরতার সাথে। তার প্রবন্ধগুলো শুধুমাত্র জটিল বিষয়গুলির উপর গভীর বোঝাপড়ার প্রতিফলন নয়, বরং পাঠকদের জন্য জ্ঞানপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা তত্ত্ব ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। বিল্লাল হোসেনের অবদান তার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে যে, তিনি আমাদের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের জটিলতাগুলি উন্মোচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি বিস্তৃত এবং আরও সূক্ষ্ম বোঝাপড়ার দিকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

ইসলামী ব্যাংকের পুনর্জাগরণের আশায়: অধ্যাপক আবু নাসের মুহাম্মাদ আবদুজ জাহের হতে পারেন আস্থার প্রতীক

Update Time : ১২:০৮:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

 

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। একসময় দেশের সবচেয়ে লাভজনক, সুশাসিত এবং আমানতকারীদের আস্থাভাজন ব্যাংক হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা চ্যালেঞ্জ, বিতর্ক এবং আস্থার সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে।

এমন এক প্রেক্ষাপটে জনাব অধ্যাপক আবু নাসের মুহাম্মাদ আবদুজ জাহেরকে ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার খবর ব্যাংকটির লাখো গ্রাহক, আমানতকারী এবং শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। অনেকের বিশ্বাস, তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, সততা, দক্ষতা এবং ইসলামী ব্যাংকিং দর্শনের প্রতি গভীর অঙ্গীকার ব্যাংকটিকে আবারও তার ঐতিহ্যবাহী অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে।

অধ্যাপক আবু নাসের মুহাম্মাদ আবদুজ জাহের বাংলাদেশের ইসলামী অর্থনীতি, ব্যাংকিং এবং সামাজিক উন্নয়ন খাতের একটি সুপরিচিত নাম। ১৯৪৮ সালে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণকারী এই শিক্ষাবিদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষকতা পেশার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে তিনি সৌদি আরবের দূতাবাসে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

ব্যবসা ও শিল্পখাতেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি ইসলামী ব্যাংকিং, শিল্পায়ন, শিক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত বহু প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে থেকেছেন।

ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও নতুন নয়। অতীতে তিনি ব্যাংকটির পরিচালক, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এবং পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে ব্যাংকটির সাংগঠনিক কাঠামো, কার্যক্রম, সংস্কৃতি এবং মূল আদর্শ সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা রয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের আস্থা। যখন গ্রাহকরা বিশ্বাস করেন যে তাদের আমানত নিরাপদ, তখনই একটি ব্যাংক প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। গত কয়েক বছরে যে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করতে প্রয়োজন দক্ষ, সৎ, অভিজ্ঞ এবং গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব। অধ্যাপক জাহেরের নাম আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ হলো তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং প্রতিষ্ঠান গঠনের সফল ইতিহাস।

তাঁর জীবনের আরেকটি উজ্জ্বল দিক হলো সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড। তিনি শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অসংখ্য দরিদ্র শিক্ষার্থীকে শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছেন, দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে সহায়তা করেছেন, আবাসন সুবিধা প্রদান করেছেন এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিভিন্ন হাসপাতাল ও কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও তিনি সুপরিচিত।

বাংলাদেশে কর্পোরেট নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এমন ব্যক্তিত্ব বিরল, যিনি একইসঙ্গে শিক্ষা, সমাজসেবা, শিল্প, ব্যাংকিং এবং মানবিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমানভাবে অবদান রেখেছেন। ফলে অনেকেই মনে করেন, ইসলামী ব্যাংকের মতো একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে তাঁর প্রত্যাবর্তন শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং একটি নৈতিক ও আদর্শিক পুনর্জাগরণের সূচনা হতে পারে।

তবে বাস্তবতা হলো, একটি বৃহৎ ব্যাংককে পুনরুদ্ধার করা কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী পরিচালনা পর্ষদ, পেশাদার ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সহায়তা। কিন্তু একজন দূরদর্শী ও গ্রহণযোগ্য নেতা এই পরিবর্তনের সূচনা করতে পারেন এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নতুন কর্মস্পৃহা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেন।

যদি অধ্যাপক আবু নাসের মুহাম্মাদ আবদুজ জাহেরকে ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে ব্যাংকটির গ্রাহক, বিনিয়োগকারী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশা হবে—তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা, সততা এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আবারও দেশের ব্যাংকিং খাতের শীর্ষস্থানে নিয়ে যাবেন। ইসলামী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং নীতি এবং গ্রাহকসেবার উৎকর্ষতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবেন—এমনটাই আশা করছেন অনেকেই।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত আজ আস্থা, স্বচ্ছতা ও সুশাসনের নতুন দৃষ্টান্ত খুঁজছে। সেই প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক আবু নাসের মুহাম্মাদ আবদুজ জাহেরের মতো অভিজ্ঞ, শিক্ষিত এবং সমাজসেবায় নিবেদিত একজন ব্যক্তির নেতৃত্ব নিঃসন্দেহে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।