শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা ‘যুদ্ধাপরাধের শামিল’বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিবের গভীর সমবেদনা
- Update Time : ০৫:০২:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৫২ Time View

দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত এবং আরও আটজন আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে তিনি নিহত শান্তিরক্ষীদের শোকসন্তপ্ত পরিবার, বাংলাদেশের সরকার এবং জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন।
শনিবার রাতে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, শান্তিরক্ষীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং তা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে।
গুতেরেস তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘সুদানের কাদুগলি এলাকায় একটি লজিস্টিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে যে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, তাতে বাংলাদেশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা নিহত ও আহত হয়েছেন। এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের ওপর এ ধরনের অযৌক্তিক ও পরিকল্পিত হামলা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য। এটি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। জাতিসংঘের কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বাধ্যবাধকতা। এ ঘটনার জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’
এদিকে, এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি আন্তর্জাতিক শান্তি, মানবতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অপরাধ। তিনি নিহত শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
সরকারি এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দক্ষিণ সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের চালানো ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হন এবং আটজন গুরুতর আহত হন। বাংলাদেশ সরকার এই হামলাকে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এ ধরনের হামলা শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও এক ভয়াবহ হুমকি বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
















