চলতি বছর ট্রাম্প প্রশাসন ৮৫ হাজারের বেশি অভিবাসীর ভিসা বাতিল করেছে: কঠোর নীতি ও বিতর্ক বাড়ছে
- Update Time : ১১:১১:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৯২ Time View

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চলতি বছর ভিসা নীতিতে অভূতপূর্ব কঠোরতা আরোপ করেছে। মাত্র এক বছরেরও কম সময়ে সব ক্যাটাগরি মিলিয়ে ৮৫ হাজারের বেশি মার্কিন ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই তথ্য জানান।
বাইডেন আমলের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি ভিসা বাতিল
স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওই কর্মকর্তা জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বাতিল হওয়া ভিসার সংখ্যা গত বছর বাইডেন প্রশাসনের সময়ে বাতিল হওয়া ভিসার প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই তার প্রশাসনের মূল অগ্রাধিকার ছিল অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ; দ্বিতীয় মেয়াদেও সেই নীতি আরও কঠোর রূপে ফিরে এসেছে।
অপরাধ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ব্যাপক ভিসা বাতিল
বাতিল হওয়া ভিসার প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে অভিযোগ করা হয়েছে—
- মাদক বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো
- মারামারি বা আক্রমণ
- চুরি
- অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড
এ ধরনের অভিযোগ স্টেট ডিপার্টমেন্টকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে বলে দাবি কর্মকর্তাদের।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ: ১০% ভিসা বাতিল
ভিসা বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী—যার সংখ্যা ৮ হাজারেরও বেশি। অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সক্রিয় থাকার জন্য তাদের অনেককে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
২৯ জানুয়ারির নতুন এক নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, ক্যাম্পাসে ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান বা “অ্যান্টি-সেমিটিক” কার্যক্রমে জড়িত বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বহিষ্কার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের টার্গেট করার অভিযোগ
বহিষ্কারের তালিকায় থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর নাম গণমাধ্যমে উঠে এসেছে—
- রঞ্জনি শ্রীনিবাসন
- রুমেইসা ওজতুর্ক
- মাহমুদ খলিল (স্থায়ী বৈধ বাসিন্দা)
সমালোচকেরা বলছেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সংশোধনী (First Amendment)-র সরাসরি লঙ্ঘন। অনেক শিক্ষার্থী আদালতে লড়াই করে আবার তাদের ভিসা পুনর্বহাল করতেও সক্ষম হয়েছেন।
অতিরিক্ত নজরদারি ও রাজনৈতিক স্ক্রিনিং বাড়াচ্ছে প্রশাসন
স্টেট ডিপার্টমেন্ট আগস্টে জানায়, কেবল সেই মাসেই তারা ৬ হাজার ভিসা বাতিল করেছে।
অভিযোগগুলো ছিল—
- ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণের পরও অবস্থান
- চুরি
- আক্রমণ
- নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো
- সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের অভিযোগ
এছাড়া জুন মাস থেকে ছাত্র ভিসা আবেদনকারীদের রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে অত্যন্ত কঠোর স্ক্রিনিং করা হচ্ছে।
প্রশাসনের পরিকল্পনায় রয়েছে—
- H1-B ভিসাধারীদের গভীর যাচাই
- বাইডেন আমলে যেসব শরণার্থী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন, তাদের পুনঃসাক্ষাৎকার
- ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকা আরও বিস্তৃত করা
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি: নতুন রূপে পুরনো কৌশল
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কার্যকর হওয়া “মুসলিম ট্রাভেল ব্যান”-এর সংশোধিত সংস্করণ এখনও বহাল আছে। পাশাপাশি তিনি শরণার্থীদের প্রবেশাধিকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছেন।
এছাড়াও, আফগান ও সিরীয় নাগরিকদের টেম্পোরারি প্রোটেকটেড স্ট্যাটাস (TPS) বাতিলেরও চেষ্টা চলছে, যদিও এটি নিয়ে আইনি লড়াই অব্যাহত।
সমালোচনা ও বিতর্ক
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে—
- রাজনৈতিক মত প্রকাশের জন্য শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়ার নজির যুক্তরাষ্ট্রকে গণতন্ত্রের মূল্যবোধের বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছে।
- ভিসা বাতিলের প্রক্রিয়া ক্রমশ অস্বচ্ছ হয়ে উঠছে।
- নিরাপত্তার অজুহাতে বাস্তবে ব্যবহার করা হচ্ছে বহিষ্কার ও ভয় দেখানোর নীতি।
















