সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হচ্ছে: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:৪২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১২৩ Time View

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় নাগরিকদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, সীমান্ত এলাকায় সম্প্রতি যা ঘটছে তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও ‘বাড়াবাড়ি’। তিনি এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনার নামে সাধারণ মানুষের হয়রানি বরদাশত করা হবে না।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। কোচবিহার ভারতের অন্যতম সংবেদনশীল সীমান্ত জেলা হওয়ায় এখানে বাড়তি সতর্কতা ও মানবিক বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।

সীমান্তে ভারতীয়দের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ

বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হচ্ছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ভয় না পেয়ে আরও সক্রিয়ভাবে নজরদারি জোরদার করতে এবং সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত তল্লাশি অভিযানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভাষাগত পরিচয়কে কেন্দ্র করে মানুষকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করার ভুল প্রবণতা বাড়ছে। তার ভাষায়—
কেউ বাংলা বললেই সে বাংলাদেশি হয়ে যায় না। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ, আর পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি রাজ্য। ভাষা দিয়ে জাতীয়তা নির্ধারিত হয় না।”

ভাষা, পরিচয় হয়রানির অভিযোগ

মমতা বলেন, ভারতে বহু ভাষিক জনগোষ্ঠী রয়েছে—

  • উত্তর প্রদেশে অনেকে উর্দু বলেন
  • পাকিস্তানেও উর্দু প্রচলিত
  • পাঞ্জাব পাকিস্তানেও আছে, ভারতেও আছে—দুই পাশের বাসিন্দাই পাঞ্জাবি বলেন

এ উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, ভাষার ভিত্তিতে পরিচয় নির্ধারণের চেষ্টা একেবারেই অযৌক্তিক এবং বাংলার মানুষকে অকারণে হয়রানি করা হচ্ছে।”

গ্রেপ্তার অভিযান কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে বলেন,
অন্য রাজ্যের কোনো সংস্থা যথাযথ পদ্ধতি না মেনে পশ্চিমবঙ্গে

কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবে না।”
তিনি মনে করিয়ে দেন, গ্রেপ্তার বা তদন্তের আগে নামের সত্যতা যাচাই করা জরুরি।

তিনি আরও জানান, আসাম থেকে কয়েকজনকে বিদেশি আইনের আওতায় নোটিশ পাঠানো হলেও এসব ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অসন্তোষ

ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হওয়ার অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,

  • অনেক মানুষের নাম তালিকায় সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না
  • যারা অন্য রাজ্যে বিয়ে করেছেন বা কাজের কারণে বাইরে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে ভুল বেশি
  • পরিযায়ী শ্রমিকদেরও অতিরিক্ত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে

তিনি জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, নতুন নাম অন্তর্ভুক্তি হালনাগাদে যেন কোনো ভুল না থাকে এবং বুথ লেভেল অফিসারদের সঙ্গে সব বিভাগ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।

বিজেপিকে তীব্র সমালোচনা

উত্তরবঙ্গ সফরের আগে কলকাতায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে লোকসভায় “বন্দে মাতরম” বিতর্কে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে উল্লেখ করায় বিজেপি সমালোচনা করলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন—

আপনারা কি জানেন না দেশের ইতিহাস? নেতাজি, গান্ধীজি, রামমোহন—তাদের অবদানকে অস্বীকার করলে কীভাবে দেশের ভবিষ্যৎ তৈরি হবে?”

তিনি বলেন, বিজেপি বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান সম্পর্কে অজ্ঞ, আর তাই তারা প্রায়শই ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হচ্ছে: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Update Time : ০৯:৪২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় নাগরিকদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, সীমান্ত এলাকায় সম্প্রতি যা ঘটছে তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও ‘বাড়াবাড়ি’। তিনি এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনার নামে সাধারণ মানুষের হয়রানি বরদাশত করা হবে না।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। কোচবিহার ভারতের অন্যতম সংবেদনশীল সীমান্ত জেলা হওয়ায় এখানে বাড়তি সতর্কতা ও মানবিক বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।

সীমান্তে ভারতীয়দের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ

বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হচ্ছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ভয় না পেয়ে আরও সক্রিয়ভাবে নজরদারি জোরদার করতে এবং সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত তল্লাশি অভিযানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভাষাগত পরিচয়কে কেন্দ্র করে মানুষকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করার ভুল প্রবণতা বাড়ছে। তার ভাষায়—
কেউ বাংলা বললেই সে বাংলাদেশি হয়ে যায় না। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ, আর পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি রাজ্য। ভাষা দিয়ে জাতীয়তা নির্ধারিত হয় না।”

ভাষা, পরিচয় হয়রানির অভিযোগ

মমতা বলেন, ভারতে বহু ভাষিক জনগোষ্ঠী রয়েছে—

  • উত্তর প্রদেশে অনেকে উর্দু বলেন
  • পাকিস্তানেও উর্দু প্রচলিত
  • পাঞ্জাব পাকিস্তানেও আছে, ভারতেও আছে—দুই পাশের বাসিন্দাই পাঞ্জাবি বলেন

এ উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, ভাষার ভিত্তিতে পরিচয় নির্ধারণের চেষ্টা একেবারেই অযৌক্তিক এবং বাংলার মানুষকে অকারণে হয়রানি করা হচ্ছে।”

গ্রেপ্তার অভিযান কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে বলেন,
অন্য রাজ্যের কোনো সংস্থা যথাযথ পদ্ধতি না মেনে

পশ্চিমবঙ্গে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবে না।”
তিনি মনে করিয়ে দেন, গ্রেপ্তার বা তদন্তের আগে নামের সত্যতা যাচাই করা জরুরি।

তিনি আরও জানান, আসাম থেকে কয়েকজনকে বিদেশি আইনের আওতায় নোটিশ পাঠানো হলেও এসব ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অসন্তোষ

ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হওয়ার অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,

  • অনেক মানুষের নাম তালিকায় সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না
  • যারা অন্য রাজ্যে বিয়ে করেছেন বা কাজের কারণে বাইরে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে ভুল বেশি
  • পরিযায়ী শ্রমিকদেরও অতিরিক্ত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে

তিনি জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, নতুন নাম অন্তর্ভুক্তি হালনাগাদে যেন কোনো ভুল না থাকে এবং বুথ লেভেল অফিসারদের সঙ্গে সব বিভাগ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।

বিজেপিকে তীব্র সমালোচনা

উত্তরবঙ্গ সফরের আগে কলকাতায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে লোকসভায় “বন্দে মাতরম” বিতর্কে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে উল্লেখ করায় বিজেপি সমালোচনা করলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন—

আপনারা কি জানেন না দেশের ইতিহাস? নেতাজি, গান্ধীজি, রামমোহন—তাদের অবদানকে অস্বীকার করলে কীভাবে দেশের ভবিষ্যৎ তৈরি হবে?”

তিনি বলেন, বিজেপি বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান সম্পর্কে অজ্ঞ, আর তাই তারা প্রায়শই ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস