সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তুতি, মোদির কাছে ভিডিও বার্তায় ন্যায়বিচারের আবেদন পাকিস্তানি নারীর

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৫৩:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১০৫ Time View

এক পাকিস্তানি নারী অভিযোগ করেছেন, তার ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্বামী বিক্রম নাগদেব তাকে করাচিতে ফেলে রেখে গোপনে দিল্লিতে দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিকিতা নাগদেব নামে পরিচিত এই নারী এই বিষয়টি নিয়ে সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ভিডিও বার্তায় বিচার চেয়েছেন।

ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরই দুই দেশের সামাজিক অঙ্গন ও আইনি মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

বিয়ের পটভূমি স্বামীর আচরণ

নিকিতা জানিয়েছেন, তিনি ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি করাচিতে হিন্দু রীতিতে বিক্রম নাগদেবকে বিয়ে করেন। যদিও বিক্রম ভারতীয় বংশোদ্ভূত, তিনি দীর্ঘমেয়াদি ভিসায় ভারতের ইন্দোরে বসবাস করতেন। বিয়ের এক মাস পর তিনি স্ত্রীকে ভারতে নিয়ে যান। কিন্তু ২০২০ সালের ৯ জুলাই ‘ভিসার কারিগরি ত্রুটি’ দেখিয়ে বিক্রম নিকিতাকে জোর করে পাকিস্তানে ফেরত পাঠান। নিকিতার দাবি, এর পর থেকে তিনি তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ নেননি।

ভিডিও বার্তায় নিকিতা বলেন,
আমি বহুবার তাকে অনুরোধ করেছি আমাকে ভারতে ডেকে নেওয়ার জন্য, কিন্তু তিনি প্রতিবারই আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। আজ যদি ন্যায়বিচার না পাই, নারীরা বিচারব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাস হারাবে।

স্বামীর প্রতারণা পারিবারিক অবস্থার অবনতি

নিকিতার অভিযোগ, পাকিস্তান থেকে ভারতে যাওয়ার পর তার শ্বশুরবাড়ির আচরণ পাল্টে যায়। তিনি জানতে পারেন, বিক্রম পরিবারের এক আত্মীয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জড়িত। বিষয়টি শ্বশুরকে জানালে তিনি ‘ছেলেরা এমন করেই থাকে’ বলে উপেক্ষা করেন।

নিকিতা আরও দাবি করেন, কোভিড১৯ লকডাউনের সময় বিক্রম তাকে জোর করে পাকিস্তানে ফেরত পাঠান এবং বর্তমানে ভারতে প্রবেশের পথও আটকে রাখা হয়েছে। করাচিতে ফিরে এসে তিনি জানতে পারেন, বিক্রম দিল্লিতে অন্য এক নারীর সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আইনি পদক্ষেপ

চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি নিকিতা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি মধ্যপ্রদেশ

হাইকোর্ট অনুমোদিত সিন্ধি পঞ্চ মধ্যস্থতা আইনি পরামর্শ কেন্দ্রের কাছে যায়। বিক্রম ও তার কথিত বাগদত্তাকে নোটিশ পাঠানো হয় এবং শুনানিও অনুষ্ঠিত হয়।

তবে মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলে ২৫ এপ্রিল কেন্দ্রটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি পাকিস্তানের এখতিয়ারভুক্ত মামলা এবং বিক্রমকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

এর আগে মামলাটি ইন্দোর সমাজ পঞ্চায়েতেও ওঠে; সেখানে বিক্রমকে নির্বাসনের সুপারিশ করা হয়। ইন্দোরের কালেক্টর আশীষ সিং জানিয়েছেন, মামলার ওপর তদন্ত এখনও চলমান এবং রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভারতে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তুতি, মোদির কাছে ভিডিও বার্তায় ন্যায়বিচারের আবেদন পাকিস্তানি নারীর

Update Time : ১১:৫৩:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

এক পাকিস্তানি নারী অভিযোগ করেছেন, তার ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্বামী বিক্রম নাগদেব তাকে করাচিতে ফেলে রেখে গোপনে দিল্লিতে দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিকিতা নাগদেব নামে পরিচিত এই নারী এই বিষয়টি নিয়ে সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ভিডিও বার্তায় বিচার চেয়েছেন।

ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরই দুই দেশের সামাজিক অঙ্গন ও আইনি মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

বিয়ের পটভূমি স্বামীর আচরণ

নিকিতা জানিয়েছেন, তিনি ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি করাচিতে হিন্দু রীতিতে বিক্রম নাগদেবকে বিয়ে করেন। যদিও বিক্রম ভারতীয় বংশোদ্ভূত, তিনি দীর্ঘমেয়াদি ভিসায় ভারতের ইন্দোরে বসবাস করতেন। বিয়ের এক মাস পর তিনি স্ত্রীকে ভারতে নিয়ে যান। কিন্তু ২০২০ সালের ৯ জুলাই ‘ভিসার কারিগরি ত্রুটি’ দেখিয়ে বিক্রম নিকিতাকে জোর করে পাকিস্তানে ফেরত পাঠান। নিকিতার দাবি, এর পর থেকে তিনি তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ নেননি।

ভিডিও বার্তায় নিকিতা বলেন,
আমি বহুবার তাকে অনুরোধ করেছি আমাকে ভারতে ডেকে নেওয়ার জন্য, কিন্তু তিনি প্রতিবারই আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। আজ যদি ন্যায়বিচার না পাই, নারীরা বিচারব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাস হারাবে।

স্বামীর প্রতারণা পারিবারিক অবস্থার অবনতি

নিকিতার অভিযোগ, পাকিস্তান থেকে ভারতে যাওয়ার পর তার শ্বশুরবাড়ির আচরণ পাল্টে যায়। তিনি জানতে পারেন, বিক্রম পরিবারের এক আত্মীয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জড়িত। বিষয়টি শ্বশুরকে জানালে তিনি ‘ছেলেরা এমন করেই থাকে’ বলে উপেক্ষা করেন।

নিকিতা আরও দাবি করেন, কোভিড১৯ লকডাউনের সময় বিক্রম তাকে জোর করে পাকিস্তানে ফেরত পাঠান এবং বর্তমানে ভারতে প্রবেশের পথও আটকে রাখা হয়েছে। করাচিতে ফিরে এসে তিনি জানতে পারেন, বিক্রম দিল্লিতে অন্য এক নারীর সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আইনি পদক্ষেপ

চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি নিকিতা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি মধ্যপ্রদেশ

হাইকোর্ট অনুমোদিত সিন্ধি পঞ্চ মধ্যস্থতা আইনি পরামর্শ কেন্দ্রের কাছে যায়। বিক্রম ও তার কথিত বাগদত্তাকে নোটিশ পাঠানো হয় এবং শুনানিও অনুষ্ঠিত হয়।

তবে মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলে ২৫ এপ্রিল কেন্দ্রটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি পাকিস্তানের এখতিয়ারভুক্ত মামলা এবং বিক্রমকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

এর আগে মামলাটি ইন্দোর সমাজ পঞ্চায়েতেও ওঠে; সেখানে বিক্রমকে নির্বাসনের সুপারিশ করা হয়। ইন্দোরের কালেক্টর আশীষ সিং জানিয়েছেন, মামলার ওপর তদন্ত এখনও চলমান এবং রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।