সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইমরান খানের খোঁজ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বিক্ষোভ ডাক—রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা জারি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:১১:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১২৯ Time View

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খানকে ঘিরে মৃত্যুর গুজব, তথ্যগোপন এবং সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কায় রাওয়ালপিন্ডি প্রশাসন তিন দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে। পিটিআই ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানী ইসলামাবাদেও ১৪৪ ধারা কার্যকর করা হয়েছে।

রাওয়ালপিন্ডির ডেপুটি কমিশনার ড. হাসান ওয়াকার চীমা স্বাক্ষরিত আদেশে জানানো হয়, ১ থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তির সমাবেশ, রাজনৈতিক মিছিল, বিক্ষোভ, ধর্না, শোভাযাত্রা, মিছিল এবং যেকোনো ধরনের গণজমায়েত পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে অস্ত্র বহন, লাঠিসহ ক্ষতিকর বস্তু রাখা, পেট্রোল বোমা বা বিস্ফোরক সামগ্রী পরিবহন, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা, উত্তেজনাকর বক্তব্য প্রদান, মোটরসাইকেলে পিলিয়ন রাইডিং এবং লাউডস্পিকার ব্যবহারও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বলছে—বিভিন্ন গোষ্ঠী অস্থিতিশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যে বড় আকারের সমাবেশ আয়োজনের চেষ্টা করতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নরম টার্গেটকে লক্ষ্য করে সহিংসতার হুমকিও তৈরি হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থেই ১৪৪ ধারা কার্যকর করা ছাড়া বিকল্প ছিল না বলে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি।

ইমরান খানের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ তুঙ্গে

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ইমরান খান রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি। দুর্নীতিসহ একাধিক মামলায় তাকে কারাগারে রাখা হলেও পিটিআইসহ পরিবারের অভিযোগ—এই মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পরিবারের সদস্যরা গত এক মাসের বেশি সময় ধরে ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ইমরানের ছেলে কাসিম খান গণমাধ্যমকে বলেন,
বাবা জীবিত, আহত নাকি নিরাপদ—আমরা কিছুই জানি না। এটি আমাদের জন্য ভয়ংকর মানসিক নির্যাতন।”
তিনি আরও জানান, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সাপ্তাহিক সাক্ষাৎ বন্ধ রয়েছে, আর গত কয়েক মাস ধরে পরিবারের সঙ্গে ইমরানের কোনো যোগাযোগ নেই।
কাসিমের অভিযোগ, ইমরান খানকে ‘ডেথ সেল’-এ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং তার প্রকৃত অবস্থা গোপন করা হচ্ছে।

পিটিআইয়ের আন্দোলন সরকারের কঠোর অবস্থান

পিটিআইয়ের খাইবার পাখতুনখাওয়া শাখা ২ ডিসেম্বর ইসলামাবাদ হাই কোর্টের সামনে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে ইসলামাবাদ প্রশাসনও ১৪৪ ধারা জারি করে জানায়, রাজধানীতে কোনো ধরনের বিক্ষোভ, সমাবেশ বা মিছিলের অনুমতি নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকবে এবং নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসনের অ্যাডভাইজারিতে সাধারণ নাগরিকদের নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে—শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থা একসঙ্গে কাজ করবে।

সাক্ষাৎ না–পেয়ে ক্ষোভ

এদিকে খাইবার পাখতুনখাওয়া মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফরিদি ইতোমধ্যে আটবার চেষ্টা করেও আদিয়ালা কারাগারে ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। ২৬ নভেম্বর সাক্ষাতের অনুমতি না পেয়ে তিনি দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা আদিয়ালা রোডে অবস্থান ধর্মঘট করেন। পিটিআই নেতাদের অভিযোগ—আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ইমরান খানের সঙ্গে পরিবারের নিয়মিত সাক্ষাৎ ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইমরান খানের খোঁজ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বিক্ষোভ ডাক—রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা জারি

Update Time : ১১:১১:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খানকে ঘিরে মৃত্যুর গুজব, তথ্যগোপন এবং সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কায় রাওয়ালপিন্ডি প্রশাসন তিন দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে। পিটিআই ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানী ইসলামাবাদেও ১৪৪ ধারা কার্যকর করা হয়েছে।

রাওয়ালপিন্ডির ডেপুটি কমিশনার ড. হাসান ওয়াকার চীমা স্বাক্ষরিত আদেশে জানানো হয়, ১ থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তির সমাবেশ, রাজনৈতিক মিছিল, বিক্ষোভ, ধর্না, শোভাযাত্রা, মিছিল এবং যেকোনো ধরনের গণজমায়েত পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে অস্ত্র বহন, লাঠিসহ ক্ষতিকর বস্তু রাখা, পেট্রোল বোমা বা বিস্ফোরক সামগ্রী পরিবহন, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা, উত্তেজনাকর বক্তব্য প্রদান, মোটরসাইকেলে পিলিয়ন রাইডিং এবং লাউডস্পিকার ব্যবহারও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বলছে—বিভিন্ন গোষ্ঠী অস্থিতিশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যে বড় আকারের সমাবেশ আয়োজনের চেষ্টা করতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নরম টার্গেটকে লক্ষ্য করে সহিংসতার হুমকিও তৈরি হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থেই ১৪৪ ধারা কার্যকর করা ছাড়া বিকল্প ছিল না বলে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি।

ইমরান খানের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ তুঙ্গে

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ইমরান খান রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি। দুর্নীতিসহ একাধিক মামলায় তাকে কারাগারে রাখা হলেও পিটিআইসহ পরিবারের অভিযোগ—এই মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পরিবারের সদস্যরা গত এক মাসের বেশি সময় ধরে ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ইমরানের ছেলে কাসিম খান গণমাধ্যমকে বলেন,
বাবা জীবিত, আহত নাকি নিরাপদ—আমরা কিছুই জানি না। এটি আমাদের জন্য ভয়ংকর মানসিক নির্যাতন।”
তিনি আরও জানান, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সাপ্তাহিক সাক্ষাৎ বন্ধ রয়েছে, আর গত কয়েক মাস ধরে পরিবারের সঙ্গে ইমরানের কোনো যোগাযোগ নেই।
কাসিমের অভিযোগ, ইমরান খানকে ‘ডেথ সেল’-এ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং তার প্রকৃত অবস্থা গোপন করা হচ্ছে।

পিটিআইয়ের আন্দোলন সরকারের কঠোর অবস্থান

পিটিআইয়ের খাইবার পাখতুনখাওয়া শাখা ২ ডিসেম্বর ইসলামাবাদ হাই কোর্টের সামনে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে ইসলামাবাদ প্রশাসনও ১৪৪ ধারা জারি করে জানায়, রাজধানীতে কোনো ধরনের বিক্ষোভ, সমাবেশ বা মিছিলের অনুমতি নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকবে এবং নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসনের অ্যাডভাইজারিতে সাধারণ নাগরিকদের নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে—শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থা একসঙ্গে কাজ করবে।

সাক্ষাৎ না–পেয়ে ক্ষোভ

এদিকে খাইবার পাখতুনখাওয়া মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফরিদি ইতোমধ্যে আটবার চেষ্টা করেও আদিয়ালা কারাগারে ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। ২৬ নভেম্বর সাক্ষাতের অনুমতি না পেয়ে তিনি দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা আদিয়ালা রোডে অবস্থান ধর্মঘট করেন। পিটিআই নেতাদের অভিযোগ—আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ইমরান খানের সঙ্গে পরিবারের নিয়মিত সাক্ষাৎ ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন।