সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হংকংয়ে অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৪

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:৩৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১১৯ Time View

হংকংয়ে অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৪, এখনো নিখোঁজ ২৭৯
গত ৭৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি

হংকংয়ের একটি উচ্চ-আবাসিক ভবনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ জনে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দমকলকর্মীসহ অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকেই গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে এখনো অন্তত ২৭৯ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি, যা হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও তল্লাশি অভিযান চলছে

তাই পো এলাকার ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক কমপ্লেক্সে বৃহস্পতিবার ভোরে শুরু হওয়া আগুন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভয়াবহ রূপ নেয়। কমপ্লেক্সটির আটটি ভবনের মধ্যে সাতটির আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি। তিনি বলেন, নিভে যাওয়া ভবনগুলোতে টিম পাঠানো হয়েছে এবং প্রতিটি কক্ষ, সিঁড়ি ও সাধারণ এলাকা তল্লাশি করা হচ্ছে। ভবনের ভেতরে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হওয়া বা আটকে পড়া মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

দাহ্য উপকরণ সংস্কার কাজ আগুন ছড়িয়ে দেওয়ার প্রধান কারণ

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভবনের প্রতিটি তলায় লিফট এলাকার জানালাগুলো এমন উপাদান দিয়ে ঢাকা ছিল যা সহজেই জ্বলে ওঠে। এসব দাহ্য উপকরণের কারণে আগুন কয়েক মিনিটের মধ্যে তলা থেকে তলায় ছড়িয়ে পড়ে।

এ ছাড়া ভবনের বাইরের দেয়াল সংস্কারের জন্য ঘিরে রাখা প্লাস্টিকের জাল এবং বাঁশের মাচা আগুন ছড়িয়ে পড়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই উপকরণগুলো আগুনের গতিপথকে বাধাহীন করে দেয়, ফলে পুরো ব্লক খুব দ্রুত অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।

সংস্কার কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার

অগ্নিকাণ্ডের পরই সংস্কার কাজে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের অফিসে অভিযান চালিয়ে দরপত্র ও চুক্তির নথি, কর্মচারীদের তথ্য, ১৪টি কম্পিউটার এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, অবহেলা বা অনিয়ম ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এখনো নিখোঁজ শত শত মানুষ

হংকং সরকারের হিসেবে, বৃহস্পতিবার ভোরে আগুন লাগার পর প্রায় ২৭৯ জনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এদের অনেকে ঘুম থেকে ওঠার সুযোগই পাননি। নিখোঁজ ব্যক্তিরা ভবনগুলোর ভেতরে আটকে আছেন কিনা—এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি।

ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র সরকারি সহায়তা

গৃহহারা হয়ে পড়া বাসিন্দাদের জন্য জরুরি আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে প্রথম ধাপে ৯টি কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখানে শত শত মানুষ পরিবারের সদস্যদের খোঁজে বা রাত কাটানোর আশায় অবস্থান নিয়েছেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে অতিরিক্ত আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকার ৩৮.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় পোশাক, জুতা, কম্বল, খাদ্যসামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজদের খোঁজে ছবি ও তথ্য শেয়ার করছেন।

হংকংয়ের ইতিহাসে আরেক দুঃখজনক অধ্যায়

গত ৭৭ বছরে হংকংয়ে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। এর আগে ১৯৪৮ সালে এক গুদামে আগুন লেগে ১৭৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। বর্তমান ঘটনার পর নাগরিক নিরাপত্তা, আবাসিক ভবনের নিরাপত্তা মান ও সংস্কার কাজের নিয়মনীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সূত্র: রয়টার্স

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হংকংয়ে অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৪

Update Time : ১০:৩৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

হংকংয়ে অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৪, এখনো নিখোঁজ ২৭৯
গত ৭৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি

হংকংয়ের একটি উচ্চ-আবাসিক ভবনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ জনে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দমকলকর্মীসহ অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকেই গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে এখনো অন্তত ২৭৯ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি, যা হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও তল্লাশি অভিযান চলছে

তাই পো এলাকার ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক কমপ্লেক্সে বৃহস্পতিবার ভোরে শুরু হওয়া আগুন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভয়াবহ রূপ নেয়। কমপ্লেক্সটির আটটি ভবনের মধ্যে সাতটির আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি। তিনি বলেন, নিভে যাওয়া ভবনগুলোতে টিম পাঠানো হয়েছে এবং প্রতিটি কক্ষ, সিঁড়ি ও সাধারণ এলাকা তল্লাশি করা হচ্ছে। ভবনের ভেতরে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হওয়া বা আটকে পড়া মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

দাহ্য উপকরণ সংস্কার কাজ আগুন ছড়িয়ে দেওয়ার প্রধান কারণ

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভবনের প্রতিটি তলায় লিফট এলাকার জানালাগুলো এমন উপাদান দিয়ে ঢাকা ছিল যা সহজেই জ্বলে ওঠে। এসব দাহ্য উপকরণের কারণে আগুন কয়েক মিনিটের মধ্যে তলা থেকে তলায় ছড়িয়ে পড়ে।

এ ছাড়া ভবনের বাইরের দেয়াল সংস্কারের জন্য ঘিরে রাখা প্লাস্টিকের জাল এবং বাঁশের মাচা আগুন ছড়িয়ে পড়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই উপকরণগুলো আগুনের গতিপথকে বাধাহীন করে দেয়, ফলে পুরো ব্লক খুব দ্রুত অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।

সংস্কার কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার

অগ্নিকাণ্ডের পরই সংস্কার কাজে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের অফিসে অভিযান চালিয়ে দরপত্র ও চুক্তির নথি, কর্মচারীদের তথ্য, ১৪টি কম্পিউটার এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, অবহেলা বা অনিয়ম ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এখনো নিখোঁজ শত শত মানুষ

হংকং সরকারের হিসেবে, বৃহস্পতিবার ভোরে আগুন লাগার পর প্রায় ২৭৯ জনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এদের অনেকে ঘুম থেকে ওঠার সুযোগই পাননি। নিখোঁজ ব্যক্তিরা ভবনগুলোর ভেতরে আটকে আছেন কিনা—এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি।

ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র সরকারি সহায়তা

গৃহহারা হয়ে পড়া বাসিন্দাদের জন্য জরুরি আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে প্রথম ধাপে ৯টি কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখানে শত শত মানুষ পরিবারের সদস্যদের খোঁজে বা রাত কাটানোর আশায় অবস্থান নিয়েছেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে অতিরিক্ত আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকার ৩৮.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় পোশাক, জুতা, কম্বল, খাদ্যসামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজদের খোঁজে ছবি ও তথ্য শেয়ার করছেন।

হংকংয়ের ইতিহাসে আরেক দুঃখজনক অধ্যায়

গত ৭৭ বছরে হংকংয়ে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। এর আগে ১৯৪৮ সালে এক গুদামে আগুন লেগে ১৭৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। বর্তমান ঘটনার পর নাগরিক নিরাপত্তা, আবাসিক ভবনের নিরাপত্তা মান ও সংস্কার কাজের নিয়মনীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সূত্র: রয়টার্স