সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন নোটে ভারতের ৩ অঞ্চলকে নিজেদের দেখালো নেপাল

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:৫৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৭১ Time View

নেপালের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নেপাল রাষ্ট্রীয় ব্যাংক (এনআরবি) নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে নতুন ১০০ রুপির নোট প্রকাশের মাধ্যমে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে ছাড়া এই নোটের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—নেপালের সংশোধিত রাজনৈতিক মানচিত্র এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেই মানচিত্রে কালাপানি, লিপুলেখ এবং লিম্পিয়াধুরা—তিনটি অঞ্চলকেই নেপালের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে, যদিও বর্তমানে এগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ভারত, এবং ভারত এগুলো নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে।

নতুন নোট প্রকাশের এই সিদ্ধান্ত এসেছে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে, যখন জেন জি-র তরুণদের ব্যাপক আন্দোলনের পর পতন ঘটে ওলি সরকারের। অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে থাকা সুশীলা কার্কির আমলেই নতুন নোটটি প্রকাশ করে এনআরবি। এই নোটে সাবেক গভর্নর মহাপ্রসাদ অধিকারীর স্বাক্ষর রয়েছে এবং এর ইস্যুর তারিখ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে নেপালি বর্ষ ২০৮১, যা ২০২৪ সালের সমতুল্য।

নেপাল ও ভারতের মধ্যে এ তিনটি অঞ্চলের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব বহুদিনের। ২০২০ সালের মে মাসে কে পি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথমবারের মতো সংশোধিত মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরা অঞ্চলকে নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়। পরবর্তীতে সংসদে এই মানচিত্র অনুমোদিত হয়। ভারত তখনই এই পদক্ষেপকে “একতরফা এবং অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করে এবং কাঠমান্ডুকে সতর্ক করে জানায় যে সীমান্তবিষয়ক ভূখণ্ড দাবি এমনভাবে সম্প্রসারণ করা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর।

নতুন নোট সম্পর্কে এনআরবির এক মুখপাত্র জানান, পুরনো ১০০ রুপির নোটেও মানচিত্র ছিল; তবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সেটিই এখন সংশোধিত রূপে প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, যদিও বিভিন্ন মূল্যমানের (১০, ৫০, ৫০০ এবং ১,০০০ রুপি) নোট প্রচলিত রয়েছে, কেবলমাত্র ১০০ রুপির নোটেই জাতীয় মানচিত্র ব্যবহার করা হয়।

নোটটির নকশায় বাম পাশে রয়েছে মাউন্ট এভারেস্টের ছবি। ডান পাশে অঙ্কিত রয়েছে নেপালের জাতীয় ফুল রডোডেনড্রনের জলছাপ। মাঝখানে ফিকে সবুজ রঙে মুদ্রিত নেপালের মানচিত্র—যেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বিতর্কিত তিন অঞ্চল। মানচিত্রের পাশে রয়েছে অশোক স্তম্ভ, যার নিচে লেখা: “লুম্বিনী, ভগবান বুদ্ধের জন্মস্থান।” আর নোটের পেছনের দিকে রয়েছে একটি একশৃঙ্গ গণ্ডারের ছবি, সঙ্গে সুরক্ষা থ্রেড ও কালো বিন্দু।

নতুন নোটে বিতর্কিত অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করাকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর একতরফা পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের সিদ্ধান্ত “ভূখণ্ডগত বাস্তবতা অস্বীকার” করে এবং এটি দিল্লির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

নেপাল প্রায় ১,৮৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত ভাগ করে ভারতের পাঁচটি রাজ্যের সঙ্গে—সিকিম, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড। ফলে সীমান্তবিষয়ক এ বিরোধ দুটি দেশের সম্পর্ককে আবারও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।

সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নতুন নোটে ভারতের ৩ অঞ্চলকে নিজেদের দেখালো নেপাল

Update Time : ০২:৫৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

নেপালের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নেপাল রাষ্ট্রীয় ব্যাংক (এনআরবি) নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে নতুন ১০০ রুপির নোট প্রকাশের মাধ্যমে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে ছাড়া এই নোটের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—নেপালের সংশোধিত রাজনৈতিক মানচিত্র এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেই মানচিত্রে কালাপানি, লিপুলেখ এবং লিম্পিয়াধুরা—তিনটি অঞ্চলকেই নেপালের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে, যদিও বর্তমানে এগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ভারত, এবং ভারত এগুলো নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে।

নতুন নোট প্রকাশের এই সিদ্ধান্ত এসেছে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে, যখন জেন জি-র তরুণদের ব্যাপক আন্দোলনের পর পতন ঘটে ওলি সরকারের। অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে থাকা সুশীলা কার্কির আমলেই নতুন নোটটি প্রকাশ করে এনআরবি। এই নোটে সাবেক গভর্নর মহাপ্রসাদ অধিকারীর স্বাক্ষর রয়েছে এবং এর ইস্যুর তারিখ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে নেপালি বর্ষ ২০৮১, যা ২০২৪ সালের সমতুল্য।

নেপাল ও ভারতের মধ্যে এ তিনটি অঞ্চলের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব বহুদিনের। ২০২০ সালের মে মাসে কে পি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথমবারের মতো সংশোধিত মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরা অঞ্চলকে নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়। পরবর্তীতে সংসদে এই মানচিত্র অনুমোদিত হয়। ভারত তখনই এই পদক্ষেপকে “একতরফা এবং অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করে এবং কাঠমান্ডুকে সতর্ক করে জানায় যে সীমান্তবিষয়ক ভূখণ্ড দাবি এমনভাবে সম্প্রসারণ করা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর।

নতুন নোট সম্পর্কে এনআরবির এক মুখপাত্র জানান, পুরনো ১০০ রুপির নোটেও মানচিত্র ছিল; তবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সেটিই এখন সংশোধিত রূপে প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, যদিও বিভিন্ন মূল্যমানের (১০, ৫০, ৫০০ এবং ১,০০০ রুপি) নোট প্রচলিত রয়েছে, কেবলমাত্র ১০০ রুপির নোটেই জাতীয় মানচিত্র ব্যবহার করা হয়।

নোটটির নকশায় বাম পাশে রয়েছে মাউন্ট এভারেস্টের ছবি। ডান পাশে অঙ্কিত রয়েছে নেপালের জাতীয় ফুল রডোডেনড্রনের জলছাপ। মাঝখানে ফিকে সবুজ রঙে মুদ্রিত নেপালের মানচিত্র—যেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বিতর্কিত তিন অঞ্চল। মানচিত্রের পাশে রয়েছে অশোক স্তম্ভ, যার নিচে লেখা: “লুম্বিনী, ভগবান বুদ্ধের জন্মস্থান।” আর নোটের পেছনের দিকে রয়েছে একটি একশৃঙ্গ গণ্ডারের ছবি, সঙ্গে সুরক্ষা থ্রেড ও কালো বিন্দু।

নতুন নোটে বিতর্কিত অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করাকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর একতরফা পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের সিদ্ধান্ত “ভূখণ্ডগত বাস্তবতা অস্বীকার” করে এবং এটি দিল্লির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

নেপাল প্রায় ১,৮৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত ভাগ করে ভারতের পাঁচটি রাজ্যের সঙ্গে—সিকিম, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড। ফলে সীমান্তবিষয়ক এ বিরোধ দুটি দেশের সম্পর্ককে আবারও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।

সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে